default-image

মানিকগঞ্জে চালু হওয়ার ৪৮ বছরেও খাদ্য বিভাগের কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়নি। খাদ্যগুদামের একটি ভবনে চলছে এর কার্যক্রম। সেটিরও ছাদ ও বিমের আস্তরণ খসে রড বের হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

খাদ্য বিভাগের কয়েক কর্মকর্তা বলছেন, এ কার্যালয়ের ভবন নির্মাণে খাদ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। পরে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হলেও এ পর্যন্ত তা কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক নাহিদা আক্তার বলেন, প্রায়ই এ ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে শরীরের ওপর পড়ে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে কাজ করতে হয়।

সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে গুদামের ১ নম্বর ভবনের ভেতরে দেয়াল দিয়ে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এক পাশের চারটি কক্ষে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং অপর পাশের ছয়টি কক্ষে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বিম ও ছাদের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে।

এ কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হারুন-অর রশিদ বলেন, ভবনটি গুদাম হওয়ায় ভেতরে আলো ও বাতাস ঢুকতে পারে না। এতে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম ও শীতকালে তীব্র শীত লাগে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে তৎকালীন মানিকগঞ্জ মহকুমা শহরের পূর্ব দাশড়া এলাকায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য একতলাবিশিষ্ট পাশাপাশি চারটি গুদামঘর নির্মাণ করা হয়। সে সময় সাবডিভিশনাল অফিসারের (এসডিও) কার্যালয়ের পাশে একটি টিনের ঘরে খাদ্য বিভাগের কার্যক্রম চলে। ১৯৭২ সাল থেকে খাদ্যগুদামের একটি ভবনে এ বিভাগের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। এর আগে গুদামের পাশে পোড়রা এলাকায় খাদ্য বিভাগের কার্যালয়ের জন্য ১৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সে জায়গায় ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ রিয়াদ কামাল বলেন, নিজেদের ভবন না থাকায় সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ করতে হচ্ছে। কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা লোকজনও অস্বস্তিতে পড়ছেন।

২০১৭ সালে তৎকালীন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুজ্জামান তাঁর কার্যালয় নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক প্রাক্কলনসংক্রান্ত একটি চিঠি ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠান। এতে খাদ্য বিভাগের জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষাসহ নকশা ও আনুষঙ্গিক কাজের প্রাক্কলন তৈরির অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে খাদ্য বিভাগের ১৮ শতক জমির মাটি পরীক্ষা ও ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়। এরপরও ভবন নির্মাণে এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালকের কাছে আবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, মানিকগঞ্জে পুরোনো খাদ্যগুদামের ভেতর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এ গুদামের বিম ও ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। প্রায়ই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাথায় চুন ও সুরকি খসে পড়ে। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পাশে খাদ্য বিভাগের জমিতে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাস বলেন, যেসব জেলায় খাদ্য দপ্তরের ভবন নেই, পর্যায়ক্রমে সেসব জেলায় ভবন নির্মাণ করা হবে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। মানিকগঞ্জেও খাদ্য দপ্তরের ভবন হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0