default-image

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে কালীগঙ্গা নদীর খনন করা বালু পাইপের মাধ্যমে অন্য স্থানে স্তূপ করে (ডাম্পিং স্থানে) রাখা হচ্ছে। সেই বালু ও বালুর সঙ্গে আসা পানি আশপাশের কৃষিজমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে ওই সব জমিতে চলতি রবিশস্য আবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ঘিওর পূর্বপাড়া এলাকায় নদীতে শক্তিশালী খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করায় পাশের পাকা সড়কের কিছু অংশ নদীতে ধসে গেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, কালীগঙ্গা নদী থেকে শক্তিশালী খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলে তা লোহার পাইপের মাধ্যমে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে বালু ও পাইপের সঙ্গে আসা পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া পাশের খালে এসব বালু পড়ে তা ভরাট হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরের পুটাইল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত কালীগঙ্গা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

বিজ্ঞাপন

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্থানীয় ঘিওর পূর্বপাড়া গ্রামের জ্যোতি খোন্দকার, আলিম খোন্দকার ও তসলিম মল্লিকের ৩৫০ শতক কৃষিজমিতে এসব বালু ফেলা হয়েছে। ৪ ফুট উঁচু করে ওই জমি ভরাট করে দেওয়ার শর্তে সেখানে বালু ফেলার চুক্তি করেছেন জমির মালিকেরা। তবে এসব বালু ও বালুর সঙ্গে আসা পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ২০ থেকে ২৫ একর কৃষিজমিতে বালু ভরাট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্তূপ করে রাখা বালু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

জ্যোতি খোন্দকারের ছেলে রাকিব খোন্দকার বলেন, বাঁধ দেওয়ার পরও আশপাশের কৃষিজমিতে বালু ও পানি ছড়িয়ে গেছে। ছড়িয়ে পড়া এসব বালু অপসারণ করা হবে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষিজমি থেকে বালু অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।
আইরিন আক্তার, ইউএনও, ঘিওর

স্থানীয় ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ঘিওর পূর্বপাড়া কবরস্থান এবং পাশের রাস্তায় এসব বালু ফেলার কথা ছিল। তবে পরে এসব বালু কয়েকজন মালিকের জমিতে ফেলা হয়। এসব বালু আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকেরা বাধা দেন। এরপর সেখানে বালু ফেলা বন্ধ রয়েছে। খালের বালুও সরিয়ে ফেলা হবে।

ঘিওর পূর্বপাড়া গ্রামের যেখানে বালু ফেলা হচ্ছে, তার পাশেই স্থানীয় সিদ্দিক শেখের ৫০ শতক জমি রয়েছে। ওই জমিতেও বালু ও পানি পড়ে আবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সিদ্দিক শেখ বলেন, ‘এবার কয়েক দফা বন্যায় খেত থেকে এমনিতেই দেরিতে পানি নামছে। সরিষা আবাদের জন্য দু-এক দিনের মধ্যে জমি চাষ দিমু। এরই মধ্যে খেতে বালু ও পানি জমায় সরিষা আর বোনা যাইব না।’

একই অভিযোগ করেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ রনি। তিনি বলেন, ডাম্পিংয়ের পাশে তাঁর ৬৪ শতক জমির অধিকাংশ স্থানে বালু ছড়িয়ে পড়েছে। বালু সরিয়ে ফেলা না হলে কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব নয়। তাঁরা শুরু থেকেই সেখানে ডাম্পিং করতে বাধা দিয়ে আসছেন।

ইউএনও আইরিন আক্তার বলেন, নদীর বালু রাখার মতো জায়গা না থাকায় কোনো কৃষিজমির ক্ষতি না হওয়ার শর্তে সেখানে ফেলা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষিজমি থেকে বালু অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বালু ফেলতে অন্য স্থানও দেখা হচ্ছে।

নদী খননকাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, চারপাশে বাঁধ দিয়ে মাঝখানে বালু ফেলার ব্যবস্থা করা হলেও কিছু বালু আশপাশের জমিতে পড়েছে। খোলা নিলামের মাধ্যমে বালু বিক্রির সময় ওই সব জমি থেকে বালু অপসারণ করা হবে। বালু বিক্রির অর্থে ভুক্তভোগী কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0