default-image

মানিকগঞ্জে করোনার টিকাদানের প্রথম দিন গতকাল রোববার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের এক–তৃতীয়াংশ টিকা নিয়েছেন। জেলায় নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ২০ জনের কম ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন। টিকা গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এরপর সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান ও সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ একসঙ্গে টিকা নেন। এরপর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ টিকা নেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইনস হাসপাতালে টিকা নেন জেলা পরিষদের সদস্য সালাম চৌধুরী। তাঁর স্ত্রীও পরে টিকা নেন। টিকা দিতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী বা টিকা নিতে এসে কোনো ব্যক্তি তেমন অসুবিধায় পড়েননি। টিকা নেওয়ার পর টিকাগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ কক্ষে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

জেলার নয়টি কেন্দ্রে একযোগে চলে টিকাদান কর্মসূচি। এসব কেন্দ্রে ৫১০ জন পুরুষ এবং ১১৬ জন নারী টিকা নেন। এর মধ্যে জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে ২৬৮ জন, শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ৭৩ জন, ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ৩৪ জন, সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ৫৬ জন, সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ৪৭ জন, হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ১৯ জন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতাল কেন্দ্রে ৩০ জন, পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ৮৯ জন এবং কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন টিকা নেন।

জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা নেন পৌর এলাকার বান্দুটিয়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ আবদুল করিম। তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটু ভয় হচ্ছিল। তবে টিকা নেওয়ার পর সেই ভয় কেটে গেছে। সাধারণ টিকার মতোই এই টিকা।’

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি মানিকগঞ্জে ৪৮ হাজার ডোজ করোনার টিকা আসে। এসব টিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। গত শনিবার এসব টিকা জেলার নয়টি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। গতকাল পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ৯০০ ব্যক্তি করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ৬২৬ জন টিকা নিয়েছেন। এই হিসাবে গণহারে করোনার টিকাদানের প্রথম দিনে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩৩ ভাগ টিকা নেন।
সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, নিবন্ধিত ব্যক্তিদের বাকিরা পর্যায়ক্রমে টিকা নেবেন। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে। জেলায় যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের কারও কোনো ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয়নি। সুস্থ ও সুরক্ষায় থাকতে তিনি সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন