মানিকগঞ্জ পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জেলার দৌলতপুরে যমুনা ও হরিরামপুরে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে দৌলতপুরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, নদীতে পানি বাড়ায় তাঁর ইউনিয়নের রামনারায়ণপুর, ব্রাহ্মণদী, কাশি দয়ারামপুর, পুরানপাড়াসহ আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ব্রাহ্মণদী গ্রামের বেশ কয়েকটি বসতভিটায় পানি ঢুকেছে। গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক মানুষ। এ ছাড়া বাঘুটিয়া উত্তরপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকিতে আছে আশপাশের অনেক বসতভিটা, ফসলি জমি ও হাটবাজার।

default-image

বাচামারা ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বলেন, ইউনিয়নের সুবুদ্ধি পাচুরিয়া, চর ভারাঙ্গা, বাদুটিয়া, কোল হাসাদিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতভিটায় পানি উঠে গেছে। এদিকে দৌলতপুর উপজেলা সদর থেকে বাচামারা পর্যন্ত সড়কটিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

দৌলতপুর ইউপির চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, জিয়নপুর ও খলসি—এই পাঁচ ইউনিয়ন নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকা। অনবরত পানি বাড়ার কারণে হাজারো মানুষ বন্যার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।

শিবালয় উপজেলাতেও যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের নিচু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। শিবালয় সদর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আলোকদিয়া, মধ্যনগর, ত্রিশুণ্ডী, গঙ্গাপ্রসাদসহ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ। এদিকে গোখাদ্যের সংকটে গবাদি প্রাণী নিয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত কাঞ্চনপুর, সুতালড়ি, লেছড়াগঞ্জ, আজিমনগর ও ধূলশুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। অনেক স্থানে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সালাম চৌধুরী বলেন, এবারের বর্ষায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদরের দিঘী ও নবগ্রাম ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোতেও পানি ঢুকে পড়েছে। অধিকাংশ ফসলি জমিও প্লাবিত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খাদ্যসহায়তা থেকে শুরু করে আশ্রয়ণ কেন্দ্র—সবই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন