বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। ৩১২ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে আজ ২১৪ জন ক্লাসে উপস্থিত ছিল। ১৫টি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আক্তার বলে, ‘অনেক দিন পর স্কুলে আসছি। অনেকের সঙ্গে দেখা হলো, ভালোই লাগছে।’

এদিকে বিদ্যালয়টির সামনের ফটকে অন্তত ২০ জন অভিভাবককে জটলা পাকিয়ে গল্প করতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মুখে মাস্ক ছিল না। মাস্ক না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী অভিভাবক বলেন, ‘বাসা থেকে স্কুলে আসার পথে মাস্ক ছিঁড়ে গেছে। মাস্ক পরেই বের হয়েছিলাম।’

সকাল ১০টার দিকে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেছে। এ সময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়গুলো খোলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।

default-image

ক্লাস শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবিদ রায় বলে, ‘কত দিন পর আবার স্কুলে এসেছি, কী যে আনন্দ! বাড়িতে থেকে আর ভালো লাগছিল না। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে ক্লাস করলে সমস্যা হবে না।’ এ সময় অন্য ছাত্ররা বিদ্যালয়ে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে। বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মাস্ক খুলে পকেটে রেখে দেয়। বিদ্যালয়ের অদূরে রাস্তার পাশে একদল শিক্ষার্থীকে জটলা পাকিয়ে গল্প করতে দেখা যায়। এ সময় তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল না।

বিদ্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকানে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ গাদাগাদি করে ঝালমুড়ি ও ফুচকা খাচ্ছিল। ফুচকা বিক্রেতার মাস্ক ছিল থুতনির নিচে। সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদা ইয়াসমিনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।

প্রতিদিন ক্লাসে ১০ মিনিটি করে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আলোচনা করতে শিক্ষকদের বলা হয়েছে। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে।
রেবেকা জাহান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

এদিকে জেলা শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও নতুন বসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেছে। তবে বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা ছিল।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৬৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে হরিরামপুর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার ১৯টি বিদ্যালয় প্লাবিত। এসব বিদ্যালয় ছাড়া বাকিগুলোয় আজ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

default-image

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, বিদ্যালয়গুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখতে শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে জেলায় মোট ২৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চবিদ্যালয়টি গতবার নদীতে বিলীন হওয়ায় বাকি ২৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ক্লাস শুরু হয়েছে।

বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা জাহান বলেন, প্রতিদিন ক্লাসে ১০ মিনিটি করে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আলোচনা করতে শিক্ষকদের বলা হয়েছে। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন