default-image

‘আমাদের দেশে প্রাণ-প্রকৃতি, মানুষের অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আজকে যত ধরনের সংকট ও উদ্বেগ রয়েছে, তা থেকে বাঁচার লড়াইয়ের দিশা ও নেতৃত্ব হতে পারেন মাওলানা ভাসানী। এই সময়ে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক নেতৃত্ব মাওলানা হামিদ খান ভাসানী।’

রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার বড় মসজিদের সামনে এক আলোচনা সভায় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন। গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মাওলানা ভাসানীর অবদানের বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, মাওলানা ভাসানী অত্যাচার, লুটপাট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভুখা মিছিল করেছিলেন। ভাসানী বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। রাজশাহী অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া এই পদ্মার পানি রক্ষার জন্য তিনি লড়াই করে গেছেন। তিনি রাজশাহী থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত লংমার্চ করেছিলেন। তিনি বলতেন, এই নদীতে কেবল মানুষেরই অধিকার নয়; এটা পশুপাখি, সাপ-ব্যাঙ সব প্রাণের অধিকার আছে। তার মানে শুধু মানুষের কথা ভাবলেই চলবে না। প্রাণ-প্রকৃতি সবকিছু যে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রথম ভেবেছিলেন মাওলানা ভাসানী।

বিজ্ঞাপন

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘আজ পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ রক্ষায় কাজ চলছে। বাংলাদেশ তো ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমাদের এক–তৃতীয়াংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। সুন্দরবন আমাদের বড় বড় সাইক্লোন থেকে বাঁচায়। এই সুন্দরবন ধ্বংস করা হচ্ছে। আমাদের দেশে প্রাণ-প্রকৃতি, মানুষের অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আজকে যত ধরনের সংকট ও উদ্বেগ, তা থেকে বাঁচার লড়াইয়ের দিশা ও নেতৃত্ব হতে পারেন মাওলানা ভাসানী। যতই দিন যাচ্ছে, মাওলানা ভাসানী সার্বভৌমত্ব ও মানুষের মুক্তির রাজনীতির দিশা নিয়ে ততই আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন।’

গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী মুরাদ মোর্শেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক আলফাজ হোসেন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য জিনাত আরা।

মন্তব্য পড়ুন 0