বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহব্যবস্থাপনা কমিটি, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ঢল নামে। পর্যটকেরা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে বনের ভেতরে ছুটে বেড়ান; যে যার মতো হইহুল্লোড়, চিৎকার-চেচামেচি করেন। উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়। পিকআপ ভ্যানে হুল্লোড় করে ছুটে বেড়ান সড়কে। উদ্যান ও উদ্যানসংলগ্ন এলাকাজুড়ে উন্মুক্ত মেলার পরিবেশ তৈরি হয়, যাতে সংরক্ষিত বনের নিরিবিলি পরিবেশের পুরোটাই ভেঙে পড়ে। এতে আতঙ্কিত বন্য প্রাণী দিশাহারা হয়ে গভীর বনের মধ্যে কোনোরকমে আত্মগোপন করে থাকে। এ ছাড়া পর্যটকেরা ইচ্ছেমতো বনের বিভিন্ন স্থানে পলিথিন ও প্লাস্টিকসামগ্রী ফেলে পরিবেশ দূষিত করেন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ১৯৯৬ সালে সরকার লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। উদ্যানটি ১৬৭ প্রজাতির গাছ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ (৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির লিজার্ড, ২ প্রজাতির কচ্ছপ), ২২ প্রজাতির উভচরসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র।

পরিবেশকর্মী ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ইকো ট্যুরগাইড সাজু মারচিয়াং গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, এই কয়েক দিন বনের পরিবেশ খুবই খারাপ ছিল। পর্যটকের ভিড়ে বন্য প্রাণীদের দেখা পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ১০ বিদেশিসহ ১৩ হাজার ২০৮ জন পর্যটক প্রবেশ করেছেন।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র এ কয়েক দিন সরেজমিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। তাঁদের ঢুকতে না দিয়ে পারা যায় না। এখানে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা নির্জনতার স্বাদটিও পাননি। মাঝেমধ্যে এত চিল্লাচিল্লি শুরু করেন, কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অনেকটা মেলার মতো হয়ে যায়। এতে বন্য প্রাণীরা দিশাহারা হয়ে পড়ে। সহকারী বন সংরক্ষক বলেন, পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করা দরকার। আগে তো বন বাঁচাতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলার সমন্বয়ক আ স ম ছালেহ সুহেল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এখনই পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তা না হলে উদ্যানের প্রাণ-প্রকৃতি বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যাবে। শুধু হল্লা-চিৎকারই করা হচ্ছে, তা–ই নয়। পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলে পরিবেশকেও ধ্বংস করা হচ্ছে। একে

তো বনের ভেতরে খাদ্যসংকট। তার ওপর মানুষের চাপ। যে কারণে প্রায়ই বন্য প্রাণী লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে। প্রজনন মৌসুমে অন্তত তিন মাস লাউয়াছড়ায় পর্যটক প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন