বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যে কারণে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আর ভোট দিতে হয় না, আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়। আমরা কথা বলতে পারি না। কথা বললেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়ে যায়। অনেক নেতা ও সাংবাদিক ভাইদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করি, আমাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে চায় না, ভোট দিতে যায় না কারণ, ভোট আগেই হয়ে যায়। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। সেটা এখন আর নেই। কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়ে গেল। সেখানে চার শতাধিক চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হয়ে গেছেন। কারণ, আওয়ামী লীগের নেতারা অন্যদের বাধ্য করেছেন প্রার্থিতা তুলে নিতে। গত কয়েক মাসে নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে ৩০০ জন মানুষ খুন হয়েছেন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রাস্তাঘাটের যে উন্নয়ন হচ্ছে, তার কমিশন খাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। জনগণ কিছুই পাচ্ছেন না। আমরা নাকি উন্নয়ন দেখতে পাই না। উন্নয়ন দেখব কীভাবে, আমাদের তো জীবনই বাঁচে না। চালের দাম ৭০ টাকা কেজি। হওয়ার কথা ছিল ১০ টাকা কেজি। বিনা পয়সায় সার দেওয়ার কথা বলে তিন গুণ বেশি টাকা নিচ্ছে সার কিনতে। আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা যে বেতন পান, তাতে কি সংসার চলে? চলে না। এই সরকারের আমলে যাঁরা বড়লোক, যাঁরা আওয়ামী লীগের তোষামোদি করে, তারা আরও বড় হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। দারিদ্র্যসীমা আগের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। সরকারি হাসপাতালে গেলে কোনো চিকিৎসা নেই।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যবাহিনীতে হাজার হাজার সেনা ছিল, কিন্তু লর্ড ক্লাইভ মাত্র কয়েক শ সৈন্য নিয়ে পলাশির প্রান্তরে নবাবকে পরাজিত করেন। বখতিয়ার খিলজি মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী নিয়ে জয়লাভ করেন। অতএব আপনারা যদি সুশৃঙ্খলিত না হন, আপনাদের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে শুধু আবেগ দিয়ে চিৎকার করে স্লোগান দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা যাবে না। জনগণকে সংগঠিত করে তাদের নিয়ে মাঠে নামতে হবে। দেশের এই সংকট শুধু খালেদা জিয়ার নয়, বিএনপির নয়, তারেক রহমানের নয়, এই সংকট সব জনগণের।’

default-image

সমাবেশে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর আগে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের মাঠে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। কিন্তু সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সেই সমাবেশ বন্ধ করে। দীর্ঘদিন পরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা আবার একটি সমাবেশ করতে পেরেছি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী সাইয়েদুল আলম ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব সোহরাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার, সাবেক সাংসদ হাসান উদ্দিন সরকার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম, বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হ‌ুমায়ূন কবীর খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল আলম, হেলাল উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন