বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুরে উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহজীবাজার এলাকায় তেলবাহী ট্যাংকলরির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার (সিএনজি) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিএনজির যাত্রী মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁরা মারা যান। নিহত দুজন ভুজপুর গ্রামের দুবাইপ্রবাসী হোসেন মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান। একই দুর্ঘটনায় আহত সুফিয়া বেগম (৪০) ও আবদুল হাই (২৭) মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

default-image

সোমবার আকলিমার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আকলিমা ও তাঁর ছেলের লাশ দাফনের জন্য নিয়ে বের হচ্ছেন লোকজন। আকলিমার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কান্নায় তখন ভারী হয়ে ওঠে আশপাশ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত আকলিমার মা মাসেনা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে পবিত্র রমজানের ঈদে এসে দেখে গিয়েছিলাম। আমার চার মেয়ের মধ্যে সে তৃতীয়। প্রায় ১০ বছর আগে তাকে কুমিল্লা থেকে আমরা শ্রীমঙ্গলে বিয়ে দিই। আকলিমার স্বামী আকলিমাকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে বিদেশ (দুবাই) গিয়েছিল। সে স্ত্রী ও সন্তানের লাশও দেখতে পেল না।’

মাসেনা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে আকলিমা কুমিল্লার কসবার ভোটার ছিল। রোববার আকলিমা তার দুধের শিশুকে নিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে শ্রীমঙ্গলে গিয়েছিল। আসার সময় আমার মেয়ে মারা গেল। তার ১০ বছর ও ৭ বছরের দুই ছেলে ও ৫ বছরের এক মেয়ে আছে। তারা মা ছাড়া কীভাবে থাকবে বুঝতে পারছি না।’

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গলের দিকে আসা তেলবাহী ট্যাংকলরির সঙ্গে শ্রীমঙ্গল থেকে সাতগাঁওগামী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পরপরই শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশু মোজাহিদ মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই দিন বিকেলেই পথে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকলিমা বেগমও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে একই সময় মারা যান।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা ও ছেলের লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন পরিবারের লোকজন। তেলবাহী ট্যাংকলরির চালক ও সিএনজির চালক ঘটনার পর থেকে পলাতক। এ ঘটনায় কোনো মামলা এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়নি। আমরা চালককে খুঁজে বের করতে কাজ করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন