মামলার জট কমাতে বিচারকদের আন্তরিক হতে হবে: বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম
মামলার জট কমাতে বিচারকদের আদালতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তিনি বলেন, মামলা পরিচালনায় বিচারকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। বিচারকদের পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর বিচার বিভাগ আয়োজিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। আপিল বিভাগের বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞা। আরও উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম কামরুজ্জামান, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন এ এইচ এম বোরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ, বিশেষ আদালতের বিচারক মাহমুদুল করিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন তিনি।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আইনকে রক্ষণশীল ও উদার—এই দুভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। আমি যখন যে দায়িত্ব পালন করি, সংবিধান ও আইন মাথায় রেখে আন্তরিকতার সঙ্গে তা বোঝার চেষ্টা করি। আমি মনে করি আইনের রক্ষণশীল ব্যাখ্যা কখনো কাম্য নয়। আইন ও সংবিধানকে উদার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখে মানুষ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে কীভাবে আইনকে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে আইন ও সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
এ সময় বিচারকদের আরও পড়াশোনা করে বিচারকাজ সম্পাদনের আহ্বান জানান তিনি। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, অপরাধের ধরন পাল্টেছে, সমাজ পাল্টেছে। অন্যদিকে অপরাধ নির্ণয়ে প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জিং পৃথিবীতে পড়ালেখার বিকল্প নেই। মামলার জট কমাতে প্রয়োজনে আদালতে অতিরিক্ত সময় দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘সম্মান এবং প্রাপ্তি মানুষের দায়িত্ববোধকে বাড়িয়ে দেয়। আমি একসময় সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতি করেছি। কিন্তু যখন বিচারকের আসনে বসি তখন মনে করি, সংবিধান ও আইন রক্ষার যে শপথ নিয়েছি, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।’