বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র মুজিবের মামলার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাঁরা মামলার আইনগত দিক বিবেচনা করে মুজিবুর রহমানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর আমরা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে একই বিষয়ে আলোচনা করেছি। বেলা দুইটার দিকে পৌর ভবনে গিয়ে আন্দোলনরত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ভ্রমণে আসা পর্যটক এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছি, তাঁরা রাজি হয়েছেন।’

সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র মুজিবের মামলার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘থানায় করা মিথ্যা মামলা থেকে মেয়র মুজিবুর রহমানের নাম প্রত্যাহারের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থে এবং দলের কতিপয় প্রভাবশালীচক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যাচেষ্টা মামলায় মেয়র মুজিবুর রহমানকে আসামি করিয়েছেন। মোনাফ সিকদারকে গুলি করার পেছনে মেয়র মুজিবের হাত নেই। এখন থেকে পৌরসভার সেবা কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চলবে।’ কর্মবিরতির কারণে টানা সাত ঘণ্টা সেবা থেকে বঞ্চিত করায় নাগরিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র-২ হেলাল উদ্দিন কবির, প্যানেল মেয়র-৩ শাহেনা আক্তার, কাউন্সিলর সালাউদ্দিন, পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামিম আকতারসহ অন্যান্য কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে মেয়র মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর ফলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয়তার সনদ, জন্মমৃত্যু সনদ প্রদান, জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সবই বন্ধ ছিল। কয়েক শ মানুষ সেবার জন্য এসে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

default-image

গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা মো. শাহজাহান। গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাঁর ছোট ভাই ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের শুঁটকি মার্কেটে গেলে তাঁকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মোনাফ সিকদার বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুলির ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে মেয়র মুজিবুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মেয়র মুজিবুর রহমানকে আসামি করার প্রতিবাদে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল বিকেল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুরো শহর অচল করে রাখা হয়। মুজিবের সমর্থক গোষ্ঠী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশের পাশাপাশি টায়ার জ্বালিয়ে প্রধান সড়কের দুপাশের দোকানপাট বন্ধ করা হয়। সন্ধ্যার পর সমুদ্রসৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় শত শত দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়। সন্ধ্যার পর সড়কের মাঝখানে পৌরসভার ময়লার গাড়ি রেখে যাতায়াত বন্ধ করা হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল। মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে রাত ১০টার পর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। আজ সোমবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করছে, দোকানপাট-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন