বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সোমবার চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে মামলার ধার্য করা দিনে শুনানি চলাকালে সিডি রাখার জন্য কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেন আদালত।

বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, ‘সিডি না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় জবাব দিতে পারেননি। এতে প্রসিকিউশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ভার প্রসিকিউশনকে নিতে হবে।’

আদেশের অনুলিপি চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলিকে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার অনুলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিচারিক কাজে সিডির গুরুত্ব অনেক। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষ্যসহ শুনানিতে সিডিতে থাকা তথ্য উপস্থাপন করে থাকে। সাক্ষীরা যাতে তথ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, শুনানির আগে সিডিতে থাকা তথ্য তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে তাঁরা সেসব তথ্য দিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এসব মামলা পরিচালনার জন্য ৯৭ জন সরকারি কৌঁসুলি রয়েছেন।

২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী নয়া বাজার এলাকায় কথা-কাটাকাটির জেরে এস এম পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর ভাই মো. ইদ্রিস বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ১১ জুলাই পাহাড়তলী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে জাহিদুল হায়াতসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। সঙ্গে মামলার সিডিও দেন।

মামলাটি বর্তমানে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। সোমবার এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত) পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন। তদন্তে যা যা পেয়েছেন, সবই আদালতে উল্লেখ করেন তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করার সময় তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে কখন, কয়টায়, সেদিন কী বার ছিল ইত্যাদি নানা প্রশ্ন করলে দিতে উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। বুধবার তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সাড়ে চার বছর আগের ঘটনা, ঠিকমতো মনে থাকার কথা না। সিডি থাকলে বিষয়টি সহজ হতো, কিন্তু সিডি পাওয়া যায়নি।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করেন আবিদ হোসেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মামলার নথি, অভিযোগপত্রে যা আছে, তা দেখে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিডি তো থাকার কথা।

মামলার বাদী মো. ইদ্রিস শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি যেন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ যেন অপরাধ প্রমাণ করতে পারে।’

সিডিকে মামলার প্রাণ উল্লেখ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্তে ও বিচারিক কাজে কেস ডকিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে সিডি জমা দিতে হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিডিতে মামলার ধারাবাহিক অগ্রগতির বিবরণ লিখে রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাও একই সিডিতে বিবরণ লেখেন। সে অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সিডি থাকলে পাঁচ থেকে দশ বছর পরও সাক্ষ্য দিতে সুবিধা হয়। নইলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন