default-image

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মামুনুলের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদউদ্দিন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশটি দেওয়া হয়।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ জান্নাত আরা ঝর্ণার (২৭) বাবা মো. অলিয়ার রহমান আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের কুলধর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাসদস্য। তিনি গোপালপুর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, কেন তাঁকে দলের কমিটির সদস্যপদ থেকে কেন বরখাস্ত করা হবে না। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বরা হয়েছে।

অলিয়ার রহমানকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে আপনার বড় জামাতা মো. হাবিবুর রহমান, মেজ মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার প্রাক্তন স্বামী মো. জাফর শহীদুল ইসলাম ও কথিত স্বামী মো. মামুনুল হক উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আপনার স্ত্রীও জামায়াতপন্থী। এগুলো সংগঠন পরিপন্থী। ওপরের নির্দেশনা মতে আপনাকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদ থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মো. অলিয়ার রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি মুঠোফোন ব্যবহার করেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ পরিবার। চিরকাল নৌকায় ভোট দিই। অলিয়ার রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। তাঁকে নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। নোটিশ পেয়ে আমার স্বামী নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে পাগলের মতো এখানে-ওখানে ঘোরাফেরা করছেন। এই অপবাদ তিনি মেনে নিতে পারছেন না।’

শিউলী বেগমের ভাষ্য, ‘আমার স্বামী মেজ মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার কর্মকাণ্ডে প্রচণ্ড বিরক্ত। গত তিন বছর ধরে তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেন না।’

এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার পরামর্শে অলিয়ার রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। আমি তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলেছি।’

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক নারীসহ অবরুদ্ধ হন। ওই নারী হলেন জান্নাত আরা ঝর্ণা।

জান্নাতের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জান্নাত যশোর ফকির বাড়ি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। সেখানে তাঁর দুলাভাই হাবিবুর রহমান ও প্রাক্তন স্বামী শহিদুল ইসলাম শিক্ষকতা করতেন। সেই সুবাদে শহীদুলের সঙ্গে জান্নাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শহিদুল খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসায় যোগ দেন। পারিবারিক কলহের কারণে তিন বছর আগে জান্নাতের সঙ্গে শহিদুলের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই সন্তান শহীদুল ইসলামের সঙ্গে থাকেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন