default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় বালু ফেলা নিয়ে একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতার তিন ছেলেসহ চারজনের নামে মামলা হয়েছে। মার খাওয়ার পর এখন আতঙ্কে রয়েছে পরিবারটি। তাই মামলার পরও নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে তারা।

পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুসলিম মিয়া পরিবার নিয়ে শহরের মধ্যপাড়ায় বাস করেন। তাঁর বাড়ির কাছে প্রয়াত দেবেন্দ্র মল্লিকের তিন ছেলে রতন মল্লিক, অঞ্জন মল্লিক ও পীযূষ মল্লিকের ৭ শতক জমি রয়েছে। তাঁরা সেখানে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বাড়ির কাজের জন্য পীযূষ মল্লিক স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। সোমবার রাতে এক ট্রাক বালু এনে মুসলিম মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় রাখেন পীযূষ। এতে বাধা দেন মুসলিম মিয়ার ছেলে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার হওয়া সুমন মিয়া। এ নিয়ে দুজর কথা-কাটাকাটি হয়। তখন সুমন পীযূষকে কিল-ঘুষি মারেন।

বিজ্ঞাপন

মার খেয়ে তিনি বাসায় চলে যান। পরে সুমন মিয়া, তাঁর বড় ভাই জেলা চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া, অপর ভাই লিমন মিয়া, তাঁদের স্বজন সদর উপজেলার নাটাই গ্রামের কামাল মিয়াসহ একদল লোক পীযূষের বাসায় যান। তাঁরা দরজা ভেঙে পীযূষকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। বাসার কাজের বুয়া পুষ্প রানীকে রড দিয়ে পেটানো হয়। পীযূষকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী ও ছেলে প্রাঞ্জন মল্লিককে মারধর করা হয়। পরে পীযূষের পকেট থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে এবং ঘরের আসবাব তছনছ করে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে মামুন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বালু ফেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির সময় সুমনকে গালাগাল করেন পীযূষ। এ ছাড়া লাঠি নিয়ে মারতে তেড়ে আসেন। তখন পীযূষকে চড়–থাপ্পড় মেরেছিলেন সুমন। তিনি দাবি করে বলেন, ‘বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতে আমি দুই-তিনজনকে নিয়ে পীযূষের বাড়িতে গিয়েছিলাম। একজনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক নারী পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন। আমরা কাউকে মারধর করিনি।’ টাকা ও মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন মামুন।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। রাতেই পীযূষের স্ত্রী রিতা থানায় একটি এজাহার দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম মিয়ার তিন ছেলে সুমন মিয়া, মামুন মিয়া ও লিমন মিয়া এবং তাঁদের স্বজন কামাল মিয়ার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন হামলায় অংশ নেন। এজাহারটি গত মঙ্গলবার রাতে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। তবে মামলার পরও ভয় কাটেনি পরিবারটির।

পীযূষ মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতেই ভাড়া বাসা ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি অন্যত্র চলে এসেছি। সেখানে গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় এসেছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আতঙ্কে বা নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় বিষয়টি ওই পরিবার আমাদের জানায়নি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন