বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে সুরাইয়ার ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। দুই পায়ে শক্তি নেই। অন্য শিশুরা যখন হেঁটে স্কুলে গেছে, সুরাইয়া গেছে মায়ের কোলে চড়ে। এভাবেই শুরু হলো তার স্কুলজীবন।

default-image

এক বছর আগে সুরাইয়াকে গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে করোনার কারণে সেটা নিয়মিত হয়নি। এবার মাগুরা শহরের পুলিশ লাইনস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে সুরাইয়াকে ভর্তি করা হলো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির দুটি পা, একটি হাত ও একটি চোখ অকার্যকর। মায়ের কোলে চড়ে প্রথম দিন এসেছিল সে। ওর যেহেতু এমন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এ কারণে ওর প্রতি আমরা একটু বেশি যত্নশীল থাকব। একটি হুইল চেয়ার হলে আর সমস্যা হবে না।’

নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চা যদি স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিত, আজ তাহলে ও নিজেই হেঁটে স্কুলে যেত। অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা করত। কিন্তু এখন কারও সাহায্য ছাড়া সে কিছু করতে পারে না। কোমর থেকে পা পর্যন্ত বল নেই। ডান হাত কাজ করে না। ডান চোখও দৃষ্টিহীন। তবে যত কষ্টই হোক, ওকে পড়ালেখা শিখিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

সুরাইয়ার বাবা চা বিক্রেতা বাচ্চু ভুঁইয়া বলেন, ‘এত দিন সুরাইয়ার বাড়িতেই সময় কেটেছে। কিন্তু এখন স্কুলে যেতে হলে একজন সঙ্গে থাকতে হবে। কারণ, সে একা বেঞ্চে বসে থাকতে পারবে না। এ কারণে একটি হুইল চেয়ার ও ওয়াকার লাগবে। তাহলে ওর স্কুলে যাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে

প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন সুরাইয়ার চাচা মোমিন ভুইয়া। মাতৃগর্ভে শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ওই হত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়। মামলাটি এখন সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আছে। মাগুরা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচারকাজ চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস্কেন্দার আজম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় তিন বছর ওই আদালতে বিচারক ছিলেন না। পাশাপাশি করোনার কারণেও মামলা ধীরগতিতে এগিয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন