default-image

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে তিন শিশু এবং মেহেরপুর এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জে মারা যাওয়া তিন শিশু হলো সায়ন (৫), মুন (৪) ও সুমাইয়া আক্তার (৫)। সায়ন ও মুন চাচাতো ভাইবোন। সায়ন হাফসরদিয়া গ্রামের ভূঁইয়াবাড়ির জামান ভূঁইয়ার ছেলে ও মুন মিলাত ভূঁইয়ার মেয়ে। আর সুমাইয়া আক্তার কাঁঠালকান্দি গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। আর মেহেরপুরে মারা যাওয়া শিশু কালু (৬) কালু শহরের খাঁ পাড়ার মজিদ মিয়ার ছেলে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।

বিজ্ঞাপন

খেলতে খেলতে পুকুরে ডুবল ভাইবোন

নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের হাফসরদিয়া গ্রামে ও দামপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে দুপুরে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাফসরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা স্বপন মিয়া বলেন, সায়ন ও মুন একসঙ্গে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে তারা মারা যায়।

কাঁঠালকান্দি গ্রামের নিহত শিশু সুমাইয়ার চাচা আবদুল কাদের বলেন, বাড়ির পাশে ডোবায় বর্ষার পানিতে ডুবে যায় সুমাইয়া। তাকে উদ্ধার করে বেলা তিনটার দিকে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুল আলম সিদ্দিকী পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মায়ের চোখের আড়াল হতেই ডুবে মরল কালু

ছয় বছরের শিশু কালুকে নিয়ে মা গিয়েছিলেন প্রতিবেশীর লাশ দেখতে। ভিড়ের মধ্যে মা ছেলেকে নজরে রাখতে পারেননি। চোখের আড়াল হতেই কালু পড়ে যায় ভৈরব নদে। নদীর পাড়ে থাকা লোকজন সঙ্গে সঙ্গে তাকে খুঁজতে থাকে। দুই ঘণ্টা পর তাকে পাওয়া যায়। নিয়ে যাওয়া হয় জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

আজ বেলা ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। কালু শহরের খাঁ পাড়ার মজিদ মিয়ার ছেলে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতে পৌর শহরের শেখ পাড়ায় বার্ধক্যের কারণে লিয়াকত শেখ মারা যান। লাশ দেখতে সকালে একে একে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসতে থাকেন। ছয় বছরের কালুও এসেছিল তার মায়ের সঙ্গে। তবে মায়ের চোখের আড়াল হতেই পড়ে যায় পাশের ভৈরব নদে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নদে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে খুঁজতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজার পরে তাকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

কালুর মা হারেছন খাতুন বলেন, কালু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে তাকে সব সময় চোখে চোখে রাখতে হয়। কিন্তু লাশ দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে সে চোখের আড়ালে চলে যায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান বলেন, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

মন্তব্য পড়ুন 0