বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাঁদতে কাঁদতে আলাউদ্দিনের মা হেনা বেগম বলছিলেন, ‘চোখের সামনে ছেলেটা আগুনে পুড়ে মরল, আমি শুধু দেখলাম, কিছু করতে পারলাম না। এ দৃশ্য আমি কোনো দিন ভুলব না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিনের ঘরে আগুন লাগলে মা হেনা বেগম চিত্কার শুরু করেন। আলাউদ্দিনের বড় ভাই মাইনউদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীও বাড়িতে ছিলেন। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে খবর পেয়ে বুড়িচং থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই সময়ের মধ্যে মারা যান আলাউদ্দিন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী জহিরুল ইসলাম বলেন, শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফয়েজ আহমেদ বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার পর থেকে আলাউদ্দিনকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ছেলেটা শেষ পর্যন্ত আগুনে পুড়ে মারা গেল।

পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টায় লাশটি দাফন করা হয়েছে।

কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, আলাউদ্দিন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এসএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়। হঠাৎ তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়। এই অবস্থায় ছেলেটি আগুনে পুড়ে মারা গেল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন