বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোকন থৌনাউজম আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল সকালে নিয়মমাফিক ওদের খাইয়ে বাইরে চলে যাই। বিকেলে বাসায় এসে দেখি ছানাগুলো মরে পড়ে আছে। ছানাগুলোর একটি শুরু থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। প্রথম থেকেই তারা ভালো খাওয়াদাওয়া করেছে। কেন যে মারা গেল, বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ছানাগুলোর জন্য উইপোকার ঢিবি সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হয়। তারা উইপোকা খেয়েছে। এর আগে ছানাদের ঘাস কুচি কুচি করে কেটে, ঘাসের বীজ ও ধানের কুঁড়া খাওয়ানো হয়েছে। অনেকেই বনমোরগ ধরে পালার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাঁচে না। ওদেরও বাঁচানো গেল না।

সিউ এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে মা বনমোরগটি চারটি ছানা নিয়ে ভাড়াউড়া চা-বাগানের নির্জন স্থানে ঘুরতে বেরিয়েছিল। হঠাৎ জিসু কাহার নামের এক কিশোর বনমোরগ ও ছানাদের ধাওয়া করে। মা ছানাগুলোকে নিয়ে বুনো ঝোপের দিকে দৌড় দিলেও তিনটি ছানা ধরা পড়ে যায়। একটি যেতে পেরেছে মায়ের সঙ্গে। ধরা পড়া ছানাগুলোকে বাড়ি নিয়ে আসে ওই কিশোর। বনমোরগের ছানা ধরার খবরটি ওই দিনই রাতে জানতে পারেন সিউয়ের সদস্য কাজল হাজরা। ওই রাতেই আলোকচিত্রী খোকন থৌনাউজম, কাজল হাজরাসহ ওই ছেলের বাড়িতে ছুটে যান। ছেলে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বোঝানো হয় এভাবে বনমোরগের ছানা বাঁচানো সম্ভব নয়। ওদের মা ছাড়া বাঁচানো যাবে না। এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

সেই কথা অনুযায়ী, পরের দিন ২৫ এপ্রিল সকালে তাঁরা আবার ওই কিশোরের বাড়িতে যান। ছানাগুলোকে যেখান থেকে ধরা হয় এবং মা বনমোরগ যে ঝোপের দিকে গিয়েছিল, সেখানে ছেড়ে দিয়ে তাঁরা দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন, কখন বনমোরগ এসে তার সন্তানদের নিয়ে যায়। ছানাগুলো দেড়-দুই ঘণ্টা ওখানে ঘোরাঘুরি করার পরও মায়ের কোনো সাড়া মেলেনি। হয়তো সন্তানহারা মা ভয়ে ওই এলাকাই ছেড়ে গেছে। এ অবস্থায় এত ছোট ছানাদের মা ছাড়া উন্মুক্ত বনে ছেড়ে দিলে বেজি, সাপ, চিল খেয়ে ফেলতে পারে।

পরে বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগসহ সিদ্ধান্ত হয় ছানাগুলো কিশোরটির কাছেই থাকবে। এখানেই লালন-পালন করে বনে ছাড়ার উপযোগী করা হবে। ছেলেটিকে লালন-পালন করার পদ্ধতিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বন বিভাগ তাকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু ছেলেটি ও তার পরিবার পোষা মোরগছানার মতো এগুলোকে উঠানে ছেড়ে দিতে থাকে। এতে যেকোনো সময় মা ছাড়া ছানাগুলোকে চিল, বেজি, কুকুর, বিড়াল খেয়ে ফেলতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে গত ২৬ এপ্রিল খোকন থৌনাউজমের তত্ত্বাবধানে ছানাগুলোকে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাসায় নিয়ে আসার পর ছানাগুলো খাওয়াদাওয়া করে। এত দিন ভালোই ছিল। কিছুটা বড় হলেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এ নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল প্রথম আলোর অনলাইনে ‘বিপন্ন বনমোরগের ছানা পাচ্ছে মানুষের সেবা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বন্য প্রাণী গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে, বনমোরগ বনমুরগি বা জংলি মুরগি নামেও পরিচিত। বনমোরগ চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের সব বন এবং সুন্দরবনে বাস করে। ভারত, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে দেখা যায়। এককালে দেশের প্রায় সব বনজঙ্গলেই দেখা যেত। ব্যাপক শিকারের কারণে পাহাড়ি বনে এরা এখন হুমকির মুখে। খুব ভোরে ও সন্ধ্যার আগে মাটি থেকে কুড়িয়ে বিভিন্ন শস্যদানা, ঘাসের গোড়া, কীটপতঙ্গ, ফল ইত্যাদি খেয়ে থাকে। রাত কাটায় উঁচু গাছের ডালে বা বাঁশঝাড়ে। ভালো উড়তে পারে। কক্ কক্ শব্দ করে ডাকে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন