পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলাতেও বন্যার পানিতে বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়। শনিবার দুপুরের পর পানি আরও বাড়তে থাকে। নজমুন নেছা যে পথ দিয়ে মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন সে পথের পাশে ছাতার খাই হাওর। শনিবার দুপুরের পর থেকে সে হাওরের পানি প্রবল স্রোতে নামছিল। পুলিশের ধারণা, মেয়ের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নজমুন নেছা ও ছেলে রহমান মিয়া স্রোতে ভেসে যান। ওই পানিতে ডুবেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আজ সকালে স্থানীয় লোকজন ছাতার খাই হাওরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। লাশটির উদ্ধারের পর আরেকটি লাশের সন্ধান পায় পুলিশ।

দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যন মো. বাহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে নজমুন নেছার স্বামী আজব আলী জাফলংয়ে বালু তুলতে গিয়ে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন। এবার স্ত্রী ও ছেলে বন্যার পানিতে তলিয়ে মারা গেল। দরিদ্র নজমুন নেছার মুঠোফোন ছিল না। এ কারণে তিনি যে নিখোঁজ সেটিও জানতেন না তাঁর মেয়ে। তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের পর চেহারার মিল পেয়ে পুলিশ আমিরাবাদ গ্রামের এক নারীকে আসতে বলেন। তিনি ঘটনাস্থলে এসে লাশটি তাঁর মায়ের বলে শনাক্ত করেন। একপর্যায়ে ওই নারী তাঁর ভাই সঙ্গে থাকার কথা জানালে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে আটকানো কিশোরের লাশ পাওয়া যায়।

মো. বাহারুল আলম বলেন, মেয়ে মনে করেছিল মা ও ভাই বাড়ি ফিরে গেছেন। অন্যদিকে নজমুন নেছার স্বজন এবং প্রতিবেশীরা মনে করেছিল তিনি মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। লাশ উদ্ধারের পর জানা গেল তাঁরা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, নিহত দুজনের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন