default-image

নৈশপ্রহরী বাবা সকালে বাড়ি ফিরে ছেলেমেয়ের কাছে তাদের মায়ের খোঁজ করেন। ছেলে (১৬) জানায়, মা নানাবাড়ি গেছেন। শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে তাঁর স্ত্রী যাননি। এরপর তিনি শ্বশুর-শাশুড়ির নামে থানায় অভিযোগ করেন। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে শ্বশুরও জামাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
তদন্তে নেমে নিখোঁজ নারীর কিশোর ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে ওই কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, মাকে হত্যা করে সে একাই লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকা বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় গোপালগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবিরে কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ওই কিশোর (১৬)। গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত ওই কিশোরকে ফরিদপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সে কোটালীপাড়া উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিহত রানী পাণ্ডে (৩৫) মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের জুড়ান বাড়ৈর মেয়ে।

জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানিয়েছে, গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সে বাড়িতে ফিরে মা রানী পাণ্ডের (৩৫) কাছে ভাত চায়। তখন তার ছোট বোন (৪) ঘুমিয়ে ছিল। মা ছেলেকে ভাত দিতে গিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে প্লেট ছুড়ে মারে এবং ভাত ফেলে দেয়। একপর্যায়ে চিৎকার–চেঁচামেচি করলে মা বটি উঁচু করে ছেলের দিকে তেড়ে আসে। ছেলে জ্বালানি কাঠ দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত বুঝতে পেরে সে লাশ বাড়ির বাইরে নিয়ে নৌকায় তোলে। এরপর লাশটি নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি উঁচু জায়গায় নামিয়ে রাখে। পরে পাশের বাড়ি থেকে লুকিয়ে পাটখড়ি ও জ্বালানি কাঠ এবং নিজেদের ঘর থেকে কেরোসিন নিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেয়। পরে নিজে নৌকা পরিষ্কার করে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, মনোরঞ্জন পাণ্ডে (৩৭) বাজারে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন। গত ২৭ জুন সকালে বাবা মনোরঞ্জন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে ঘরে দেখতে না পেয়ে ছেলেমেয়ের কাছে জানতে চান তাদের মা কোথায় গেছে? উত্তরে ছেলেমেয়ে বলে মা মামাবাড়িতে গেছে। মনোরঞ্জন শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী সেখানে নেই।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মনোরঞ্জন ১ জুলাই কোটালীপাড়া থানায় শ্বশুর-শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে ৮ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, ২০০৩–এর ১১(ক) ধারায় (যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো) মামলা করেন রানীর বাবা। ওই মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। মামলার পরই বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে প্রথমে মনোরঞ্জন পাণ্ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সে এলোমেলো কথাবার্তা বলে। পরে সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার করে।

মন্তব্য পড়ুন 0