বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে বায়ানপাড়া গ্রামে কেশব রায়ের বাড়ি। আজ সকালে কেশবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল উঠেছে। পরিবারের সহায়-সম্বল বলতে ৪ শতক জমির ওপর পুরোনো দুটি টিনের ঘর। ঘরের আসবাব বলতে দুটি চৌকি ও একটি টেবিল।

নিহত কেশবের বাবা মংলু রায় বলছিলেন, ‘ঢাকা যাওয়ার সময় ছাওয়াটা মোক কয়ছলো, বাবা চিন্তা করিস না। মোর লেখাপড়া শেষ হইলে তোর কষ্ট থাকবে না। মুই চাকরি করলে হামার সউগ কষ্ট দূর হইবে। তোক মাইনসের বাড়িত কাম কইরার নাগবে না। চিকিৎসার টাকারও অভাব হইবে না। কিন্তু ওরা যে মোর ছাওয়াটাক ছুরি দিয়া মারি ফেলাইল। এলা হামার কী হইবে?’

স্বামীর এসব কথা শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী আরতী রানী। মাথায় পানি ঢালার পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। তিনি বলতে থাকেন, ‘যাদুটাক নিয়া হামার মেলা স্বপ্ন আছলো। গুন্ডারা মোর স্বপ্ন শেষ করি দেইল। জানে মারি ফেলাইল মোর বাপটাক। শেষ বয়সে হামাক কায় দেখবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মংলু রায়ের কোনো আবাদি জায়গাজমি নেই। আগে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। অসুস্থতার কারণে এখন আর ভারী কাজ করতে পারেন না। কেশবের ছোট ভাই রডমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। কেশব এলাকা থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকার সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। ষষ্ঠ সেমিস্টার সম্পূর্ণ করেছেন। লেখাপড়া ও নিজের খাওয়ার খরচ জোগাতে মামা কমল রায়ের সঙ্গে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কম্পিউটার শাখায় খণ্ডকালীন কাজ করছিলেন কেশব।

কমল রায় জানান, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে সুন্দরবনের নিউ এলিফ্যান্ট রোডের কার্যালয় থেকে বাইসাইকেলে করে তেজগাঁওয়ের মণিপুরের বাসায় ফিরছিলেন কেশব। রাত নয়টার দিকে কয়েক দুর্বৃত্ত তাঁকে ছুরিকাঘাত করে সাইকেল ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক কেশবকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন।

কমল রায় বলেন, অনেক কষ্টে কেশব পড়ার খরচ নিজেই জুগিয়েছে। তাঁর স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাঁকে মেরে ফেলল। তাঁরা ঢাকায় গিয়ে মামলা করবেন। এর কি বিচার হবে?

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন