default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে মিছিল শুরুর আগেই রাজশাহীতে অন্তত ১০ জনকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁদের সবাইকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্নাও রয়েছেন। আটক অন্যরা হলেন বাসদের রাজশাহী জেলা সমন্বয়কারী আলফাজ হোসেন, মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আবদুর রহমান নবীন, মহানগরের সদস্য সাগর, ছাত্রফ্রন্টের রিদম শাহরিয়ার। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বাম জোটের কয়েকজন নেতা বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরের জিরো পয়েন্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে মিছিল করার কথা ছিল। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নগরের আলুপট্টিতে সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে জিরো পয়েন্টে আগে থেকেই পুলিশ অবস্থান করছিল। তাঁরা সেখানে কর্মসূচি পালন করতে চাইতে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের প্রেসক্লাব প্রান্তে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পথসভাকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল তারা। এ সময় জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিবিরোধী স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি করতে চান বাম গণতান্ত্রিক জোটের কিছু নেতা-কর্মী। এতে মানববন্ধনের অনুমতি না থাকায় তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে সেখানে স্লোগান ধরেন। এতে পুলিশ তাঁদের ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইলে তর্কে জড়ান তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়। কয়েকজন ইচ্ছে করেই পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁদের সবাইকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের রাজশাহী জেলার সমন্বয়ক মুরাদ মুর্শেদ বলেন, নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রদায়িক একজন মানুষ, যিনি কিনা ভারতজুড়ে তাঁর বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক ধরনের বৈষম্যমূলক ও আধিপত্যমূলক আচরণ করছেন। রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মতো অনুষ্ঠানে তাঁকে আনার বিরোধিতা করার রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার তাঁদের রয়েছে। তাঁরা এতটাই ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছে, সেই মতপ্রকাশের ন্যূনতম অধিকারটুকু এই সরকার দিতে চায় না।

নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে হলে অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। তাঁরা অনুমতিও নেননি, তাঁদের কাছে কোনো ব্যানারও ছিল না। তাঁরাই কথা-কাটাকাটি শুরু করে বলে ‘তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করতে’। কয়েকজন জোর করে পুলিশের গাড়িতেও উঠে পড়েন। পরে তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে মুচলেকা নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন