বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বলিপাড়ায় তিনজন, সদর থানচিতে তিনজন, তিন্দুতে চারজন ও রেমাক্রিতে দুজন। চার ইউপিতে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে লড়ছেন ৩৩ ও সাধারণ ওয়ার্ডে ১০৯ জন।

উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা (রুমা উপজেলার দায়িত্বে থাকা) তরুণ কুমার চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থানচিতে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে নীরবে। কোথাও মাইকিং নেই, নেই মিছিল–সমাবেশ। দিনের বেলায় সাঙ্গু নদকেন্দ্রিক প্রচারণা চলে নৌকায় চড়ে। সন্ধ্যার পর হাটবাজার, দোকানপাট বা প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে।

তরুণ কুমার চাকমা আরও বলেন, শহরের মতো জমজমাট নির্বাচন পাহাড়ে হয় না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।

সাঙ্গু নদের পাশে হোটেল, দোকানপাট, বাজার নিয়ে গড়ে উঠেছে সদর থানচি ইউনিয়ন। নদের পাশে তিনতলা হোটেল ‘ডিসকাভারী থানচি’। হোটেলের সামনে ও দুই পাশের দোকানপাট, হাটবাজার ও প্রধান সড়কের রশিতে ঝুলছে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার ১০ থেকে ১২টি কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয়গুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো। দিনের বেলায় কার্যালয়গুলো থাকে ফাঁকা। সন্ধ্যার পর থেকে কিছু লোক আসতে থাকে। রাত ১১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে চলে ভোটারদের নির্বাচনী আলোচনা।

সদর থানচি ইউনিয়নের ভোটার রাসাই মং মারমা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অং প্রু ম্রোর সঙ্গে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ক্রা প্রু অং মারমার। চশমা প্রতীকের আরেক প্রার্থী মাংসার ম্রো জনপ্রিয়তাও আছে এলাকায়।

অং প্রু ম্রো বলেন, পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করা কঠিন। তাই মিছিল খুব একটা হয় না। প্রচারণা চলে নীরবে। ঘরে ঘরে গিয়ে জনসংযোগ হয় বেশি। তাতে ভোটারেরা খুশি হন।

ক্রা প্রু অং মারমা বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছি।’

default-image

থানচি বাজারের কয়েকজন ভোটার বলেন, দিনের বেলায় ৯০ শতাংশ ভোটার কাজকর্ম নিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে মিছিল-সমাবেশ হয় না। অধিকাংশ ভোটারের ঘরবাড়ি পাহাড়ে, একটা সঙ্গে আরেকটা দূরত্বও অনেক। পাহাড়ের যোগাযোগব্যবস্থাও খারাপ। তাই সাঙ্গু নদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাটবাজারগুলো। লোকজনের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমও সাঙ্গু নদ। তাই নির্বাচনী প্রচারণাও চলছে সাঙ্গু নদকেন্দ্রিক।

থানচি বিজিবি ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে তিন্দুবাজার। নদের পাশের ছোট বাজারটিতে দোকানপাট আছে ১০ থেকে ১৫টি। লোকজন আছে ২০ থেকে ৪০ জন। সেখানে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। বাজারের এদিক-ওদিক রশি দিয়ে টাঙানো বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার।

তিন্দু ইউনিয়নে চার চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাঁরা হলেন থোয়াই চিং মং মরমা (আনারস), ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা (চশমা), মং প্রু অং মারমা (নৌকা) ও মং সাই মারমা (ঘোড়া)।


নৌকার প্রার্থী মং প্রু অং মারমা বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, ভোটও হবে শান্তিপূর্ণ।

নৌকা নিয়ে সাঙ্গু নদের ৩৩ কিলোমিটার গেলে রেমাক্রি বাজার। নদের দুই পাশে চার থেকে পাঁচটি বাজার। বাজারগুলোয় রশি দিয়ে ঝোলানো অসংখ্য পোস্টার। নদের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় পাথরখণ্ডেও লাগানো পোস্টার। রেমাক্রি ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন প্রার্থী। নৌকা প্রতীকের মুয়ি সোয়েই মারমার সঙ্গে লড়ছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী সোসিং মং মারমা।

বলিপাড়া ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তাঁরা হলেন ক্রসাও মারমা (আনারস), জিয়া অং মারমা (নৌকা) ও মং ক্য চিং মারমা (চশমা)।

রেমাক্রি জলপ্রপাত ভ্রমণে আসা কক্সবাজার বন ও পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, থানচির নীরব প্রচারণা তাঁকে অবাক করেছে। এমন প্রচারণাকে ‘পরিবেশবান্ধব প্রচারণা’ উল্লেখ করে দীপক শর্মা বলেন, এখানে কান ঝালাপালা করার মতো শব্দদূষণেরও কিছুই নেই। কক্সবাজারসহ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ‘নীরব প্রচারণা’ চললে মানুষ সুস্থ থাকাত।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থোয়াই হ্লা মং মারমা বলেন, এখানকার ভোটাররা দিনের বেলায় কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই মিছিল সমাবেশ হয় না। সবকিছু চলে চুপচাপ-নীরবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন