default-image

নেত্রকোনার পূর্বধলায় মিথ্যা মামলা করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করায় বাদী মো. মুনছুর আলীকে (৬৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করলে বিচারক সোহেল ম্রং এই নির্দেশ দেন। মুনছুর আলী পূর্বধলার বেড়াইল গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মুনছুর আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী মো. সায়েদ আলী (৫০) ও তাঁর বড় ভাই মো. আছব আলীর (৫৩) বিরোধ ছিল। এর জের ধরে মারামারির ঘটনা দেখিয়ে গত ২ ডিসেম্বর পূর্বধলা আমলি আদালতে একটি মামলা করেন মুনছুর। এতে পাঁচজনকে সাক্ষী করে প্রতিপক্ষের দুই নারীসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে রামদা, লোহার রড, লাঠি নিয়ে মুনছুর ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনিসহ তিনজন জখম হন। পরে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ব্যক্তিদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে গত ২ ডিসেম্বর মুনছুর বাদী হয়ে মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্র জানায়, পরে মামলার নারাজির শুনানির সময় বাদীর দাখিল করা হাসপাতালের ছাড়পত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাদী মুনছুর আলী ওই তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হননি। তিনি গত ২০ ও ২১ নভেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাদী মিথ্যা মামলা করায় ১১ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মুনছুর আলীকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল ম্রং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১৩ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নেত্রকোনার কোর্ট পরিদর্শক আবদুর রহমান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে মুনছুর আলীকে গতকাল সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন