default-image

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে পৌর মেয়র, কাউন্সিলরসহ আগুনে পুড়ে কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মিরকাদিম পৌর মেয়র আবদুস সালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা বোমা বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, গ্যাসের লিকেজ থেকেও তা হতে পারে।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র আবদুস সালাম (৫৫), তাঁর স্ত্রী কানন বেগম (৪০), প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা (৪৫) ও আওলাদ হোসেন (৪২), তাজুল ইসলাম (২৫), মাইনুদ্দিন (৪৪), মোশারফ হোসেন (৪২), শ্যামল দাস (৪৫), পান্না মিয়া (৫০), কালু মিয়া (৪০), ইদ্রিস আলী (৫০), মো. সোহেল (৫২) ও দ্বীন ইসলাম (৪০)।

তাঁদের মধ্যে কানন বেগম, রহিম বাদশা, আওলাদ হোসেন, তাজুল ইসলাম, মাইনুদ্দিন, মোশারফ হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না মিয়া, কালু মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, রাত আটটার দিকে হঠাৎ পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে মানুষের চিৎকার শোনেন তাঁরা। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সেই বাড়িতে আগুন দেখতে পান। আহত পৌর প্যানেল মেয়র আওলাদ হোসেনের চাচাতো ভাই সেন্টু মিয়া বলেন, রাত আটটার দিকে পৌরসভার সব কাউন্সিলর ও স্টাফ নিয়ে নিজ বাসভবনে সভায় বসেন পৌর মেয়র আবদুস সালাম। সেখানে বিগত সময়ের বিভিন্ন কাজের ফাইলপত্র নিয়ে কথা বলছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। সভার একপর্যায়ে বোমার বিকট শব্দে মেয়রের বাসভবনে আগুন জ্বলে ওঠে। এতে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র, মেয়রের স্ত্রীসহ ১৫ থেকে ১৬ জন আগুনে পুড়ে আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের লোকজন বর্তমান মেয়রের বাড়িতে এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক রাত ১০টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, মিরকাদিম থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া নিয়ে ১৩ জন রোগী হাসপাতালে আসেন। এঁদের মধ্যে ৯ জনের শরীরের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এক নারীর অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব খান প্রথম আলোকে বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা ঘটনাটি শোনেন। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার কোনো আলামত পাননি। তারপরও বোমা বিশেষজ্ঞ দল ডাকা হয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুন্সিগঞ্জ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনার পরপরই তাঁরাও সেখানে যান। বোমার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লিকেজ থেকে সম্পূর্ণ ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন