default-image

মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলামের প্রাইভেট ক্লিনিকে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ উঠেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালামের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পৌরসভার বটতলা এলাকার ফাতেমা জেনারেল হাসপাতালে এ হামলা ঘটে। হাসপাতালটির এক নার্স প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্রতিদিনের মতো কাজ করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী হাসপাতালের ভেতরে জোর করে প্রবেশ করে। হাসপাতালের অফিসকক্ষে গিয়ে স্টাফ আলামিনসহ কয়েকজনকে বেদমভাবে পেটানো শুরু করে। চিকিৎসক-নার্সরা হাসপাতালের ভেতরের কক্ষ থেকে বাইরে এলে তাঁদের ধমক দিয়ে ভেতরে চলে যেতে বলে সন্ত্রাসীরা। তারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

হাসপাতাল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে দুর্বৃত্তের দল হাসপাতালে দোতলার কক্ষে যায়। সেখানে তারা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, সবাই স্থানীয়।

অভিযোগ উঠেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালামের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ফাতেমা জেনারেল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী মেয়র শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকাকে শ্রদ্ধা করে, নৌকাকে ভালোবেসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তারপরও “নব্য আওয়ামী লীগার” এবং মনসুর আহমেদ কালামের লোকজন বিভিন্নভাবে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও লোকজনকে মারধর করে চলেছে। বিষয়টি বেশ কয়েকবার পুলিশকে জানিয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালামের অনুসারী জালাল, জিল্লু ও আকাশরা আমার হাসপাতালে হামলা চালিয়ে আমার লোকজনকে মারল। হাসপাতাল থেকে টাকাপয়সাও নিয়ে গেল। হাসপাতালের রোগীরা ভয়ে চলে গেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এর বিচার চাই।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালামের (মনসুর আহমেদ) অনুসারী জালাল, জিল্লু ও আকাশরা আমার হাসপাতালে হামলা চালিয়ে আমার লোকজনকে মারল। হাসপাতাল থেকে টাকাপয়সাও নিয়ে গেল। হাসপাতালের রোগীরা ভয়ে চলে গেছে। এর বিচার চাই।
শহিদুল ইসলাম, মিরকাদিম পৌর মেয়র ও ফাতেমা জেনারেল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী
বিজ্ঞাপন

তবে মনসুর আহমেদ কালাম আজ শুক্রবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহিদুল ইসলামের হাসপাতাল কোথায় আমি চিনি না। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছিলাম। মেয়র থাকাকালে শহিদুল ইসলাম অনেক মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। যদি হাসপাতালে কেউ হামলা করে থাকে, সেটা ওই অত্যাচারিত লোকজন হতে পারে। আমি ও আমার লোকজন কেউ এমন কাজের সাথে জড়িত নই। কোন অন্যায়কে পূর্বে প্রশ্রয় দেইনি, এখনো দেই না, আগামীতেও দিব না।’

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার গত নির্বাচনে মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম নৌকার পক্ষে ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের অনুসারী বলে পরিচিত। মিরকাদিম পৌরসভাটি সদর উপজেলার মধ্যে। ওই উপজেলা নির্বাচন থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার দৌড়ে তৃণমূলের ভোটে এগিয়ে ছিলেন মেয়র শহিদুল ইসলামই। তবে কেন্দ্র থেকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয় মনসুর আহমেদ পক্ষের আবদুস সালামকে। মেয়র শহিদুল ইসলাম পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কিছুদিন আগে নৌকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরই মেয়র শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনকে দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা করতে বিভিন্ন সময় হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে অন্য পক্ষটি।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার গত নির্বাচনে মেয়র শহিদুলকে আমিই নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেছিলাম। শহিদুল তা করেছেনও। ওই নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মনোনয়ন পেয়ে শহিদুলের ওপর হামলা করছে। এ জন্যই আমি দায় মাথা পেতে নিলাম।
মহিউদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলার জন্য আমিই দায়ী। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার গত নির্বাচনে মেয়র শহিদুলকে আমিই নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেছিলাম। শহিদুল তা করেছেনও। সেই কারণেই এখন তাঁর শত্রু তৈরি হয়েছে। ওই নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মনোনয়ন পেয়ে শহিদুলের ওপর হামলা করছে। এ জন্যই আমি দায় মাথা পেতে নিলাম।’

এ ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ব্যাপারগুলো কেন্দ্রেও জানে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে জেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। কেন্দ্রই সব সিদ্ধান্তের মালিক।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি শুনেই তাঁরা হাসপাতালে যান। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন