default-image

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করার কথা জানালেও তা দলের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ।

দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করতে হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি যে সাংগঠনিক কমিটির সদস্য, সেই কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই তা কার্যকর হবে। যত দূর জেনেছি, আবদুল কাদের মির্জা ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সেটা গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি।’

আবু সাঈদ আল মাহমুদ জাতীয় সংসদের হুইপ এবং জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় সাংসদও।

বিজ্ঞাপন

আবু সাঈদ আল মাহমুদ ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। টানা দুই দফা তিনি রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বেও ছিলেন। প্রায় এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকা আবু সাঈদ আল মাহমুদকে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বিভাগে হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে হলে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত করতে হবে। ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে চাঙা করার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবব্ধ করতে হবে। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে দরকার ভালো টিমওয়ার্ক। সাংগঠনিক বিভেদের কারণ চিহ্নিত করতে সমস্যার গভীরে ঢুকতে চাই। চট্টগ্রাম মহানগরসহ ১৫টি সাংগঠনিক জেলা এই বিভাগে। বিভেদ মিটিয়ে দলকে সুসংগঠিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেই চ্যালেঞ্জে জিততে চাই।’

আবু সাঈদ আল মাহমুদ অতীতে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দুই দফা রাজশাহী বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর, পাবনার চাটমোহর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা ব্যতীত আট জেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর এবং উপজেলা-জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করেছি। খুলনা বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ব্যতীত প্রায় সব জেলায় দল গুছিয়ে দিয়েছি। সাত জেলায় সম্মেলন করেছি। রংপুর বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণের পর করোনার মধ্যেও সব জেলায় সাংগঠনিক বৈঠক করেছি। ৪ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দিয়েছি। রংপুর মহানগর নবসৃষ্ট পাঁচ থানা কমিটি গঠনের জন্য সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ করেছি।’

চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্ব পালন অন্য বিভাগের চেয়ে আরও চ্যালেঞ্জের হবে উল্লেখ করে আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিভাগের। এ কারণে এখানে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন খুব সুখের হবে না। তবে আমি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছি, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবে দল পুনর্গঠন ও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছি।’

চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছি, সেখানেই ফুলের তোড়া উপহার, সংবর্ধনার কালচার, শোডাউন ও তোষামদিকে “না” বলেছি। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব পালনকালেও তা অটুট থাকবে।’
আবু সাঈদ আল মাহমুদকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব প্রদান ছাড়াও মঙ্গলবার থেকে মির্জা আজমকে ঢাকা বিভাগে, আহমদ হোসেনকে সিলেটে, বি এম মোজাম্মেল হককে খুলনায়, এস এম কামাল হোসেনকে রাজশাহী বিভাগে, আফজাল হোসেনকে বরিশালে, শফিউল আলম চৌধুরীকে ময়মনসিংহে ও সাখাওয়াত হোসেনকে রংপুর বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন