র‍্যাব জানায়, প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত ১৬ নভেম্বর আবার জলদস্যুদের তৎপরতা শুরু হয়। ওই দিন রাতে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মান্দারবাড়ী এলাকায় একটি ট্রলারে থেকে ১৮-২০ জনের জলদস্যু গুলি করে পাথরঘাটার এক জেলেকে হত্যা করে। এরপর জলদস্যুদের দলটি জেলেদের জাল, মাছ, জ্বালানিসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।

পরের এক সপ্তাহে কমপক্ষে ২০টি ট্রলার থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার জাল, মাছ ও জ্বালানি লুটপাট করে দস্যু দলটি। এ সময় সাত জেলেকে অপহরণ করা হয়। প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। ২৬ নভেম্বর ওই জেলেরা ছাড়া পাওয়ার পর পাথরঘাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

default-image

র‍্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসব ঘটনার পর থেকে র‍্যাব দস্যুদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দস্যুদের মুক্তিপণের অর্থ আদায়ের বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে র‍্যাব শনাক্ত করে। এরপর র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলিয়াস হোসেন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ইলিয়াস জলদস্যু বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে আসছেন। তবে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী। তিনি বিভিন্ন সময়ে পোশাককর্মী, নির্মাণশ্রমিক, সেমাই প্রস্তুতকারকসহ বিভিন্ন পেশায় ছদ্মবেশে থাকতেন এবং মুক্তিপণের অর্থ আদায় করতেন। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন