বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচিত সেই নাইন ক্যাবিনেটের সদস্যদের সবাই ছিলেন লালমনিরহাট শহরের সাপটানা বাজারের শেরেবাংলা ইয়ুথ ক্লাবের সদস্য। এই ক্যাবিনেট সদস্যদের কাজ ছিল স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আন্দোলন সংগঠনের জন্য প্রকাশ্য ও গোপনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিল সাহসিকতার সঙ্গে লালমনিরহাট শহরে মাইকিং, পোস্টারিং, দেয়াললিখন, লিফলেট বিলি, নেতাদের মধ্যে তথ্যের আদান–প্রদান করা। তবে আলোচিত নাইন ক্যাবিনেট সদস্যদের প্রধান কাজ ছিল বাঙালিদের আন্দোলন–সংগ্রামের প্রধান প্রতিপক্ষ অবাঙালি ছাত্র, যুবক, শ্রমিকসহ সন্ত্রাসী প্রকৃতির বিহারিদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড নানাভাবে প্রতিরোধ করা।

নাইন ক্যাবিনেট সদস্যরা অবাঙালিদের অপতৎপরতা রোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।
মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কমান্ডার

আলোচিত এই নাইন ক্যাবিনেট সদস্যরা হলেন নাজিম উদ্দীন আহমেদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা), ইউসুফ আলী (বীর মুক্তিযোদ্ধা), শাহ জাহান ভূঁইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা), আমজাদ হোসেন (বীর মুক্তিযোদ্ধা), শাহ জাহান আলী (মুক্তিযুদ্ধে লালমনিরহাটের প্রথম শহীদ), খন্দকার নুরুল ইসলাম, হাবিবউল্লাহ সরকার, আলী আশরাফ ও আনোয়ার হোসেন।

১৯৭১ সালে লালমনিরহাট শহরের নাইন ক্যাবিনেট সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা আশরাফুজ্জামান মণ্ডলের লালমনিরহাট জেলার ইতিহাস, আজহারুল আজাদের গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ, শ্রাবণী প্রামাণিকের গণহত্যা পরিবেশ থিয়েটারের নাটক লালমনি ৭১ এবং মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে জানা গেছে, নাইট ক্যাবিনেটের নাজিম উদ্দীন আহমেদ ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ সকালে লালমনিরহাট সদর থানার অদূরে তৎকালীন শহীদ মিনার চত্বরে পাকিস্তানি জাতীয় পতাকা নামিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। আরেক

সদস্য শাহজাহান আলী ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন রেলওয়ে আপইয়ার্ড কলোনিতে অন্যা বাঙালিদের সঙ্গে অবাঙালিদের অস্ত্র উদ্ধার করতে যান। এ সময় শাহজাহান আলী গুলিতে শহীদ হন। দেশ স্বাধীন হলে লালমনিরহাটের প্রথম এই শহীদের নামে রেলওয়ে আপইয়ার্ড কলোনির নাম ‘শহীদ শাহজাহান কলোনি’ রাখা হয়।

নাইন ক্যাবিনেটের আরেক সদস্য শহরের পুরান বাজারের আনোয়ার হোসেন। ১৯৬৯ সালের ৯ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের কর্মিসভা করতে ট্রেনে লালমনিরহাট শহরে আসেন। বঙ্গবন্ধু তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের সাপটানা বাজারের ব্যবসা কেন্দ্র চত্বরে একটি কর্মিসভা করেন; যা আসলে জনসভায় পরিণত হয়।

এই কর্মসূচি শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তৎকালীন লালমনিরহাট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্য নেতারা নাইন ক্যাবিনেট সদস্য আনোয়ার হোসেনের বাবা আলতামাস মিয়া ওরফে আলতু মিয়ার বাসায় দুপুরের খাবার খান। এর এক দিন পরে পুলিশ তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

নাইন ক্যাবিনেটের ৯ সদস্যের মধ্যে এখন তিনজন জীবিত আছেন। তাঁরা হলেন নাজিম উদ্দীন আহমেদ, আলী আশরাফ ও হাবিবউল্লাহ সরকার।

নাইন ক্যাবিনেট সদস্য নাজিম উদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে একটা দেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে আগুনে পুড়িয়েছি আমি। স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলাম। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সমঝোতা হলে অথবা দেশ স্বাধীন না হলে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর দায়ে আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হতো, ফাঁসি অথবা জেলে পচে মরতে হতো।’

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নাইন ক্যাবিনেট সদস্যরা লালমনিরহাট শহরের অবাঙালিদের অপতৎপরতা রোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি তাঁদের মঙ্গল কামনা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন