বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীরা জানান, দরিদ্র ওই পরিবারের সদস্যদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে। ক্ষুধার জ্বালায় সুমন ও সিমন বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে খাবার চাইত, কখনোবা গোপনে গাছের ফল ছিঁড়ে নিয়ে আসত। এসব কারণে প্রতিবেশীদের কথা শুনতে হতো তাদের বাবা-মাকে। তাই সুমনকে ছয় মাস ধরে এবং সিমনকে ১৫ দিন ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন মা-বাবা। এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ওই শিশু দুটির মা শেফালি বেগম বলেন, ‘কাইল (সোমবার) বিকালে ইউএনও আইসার আগোত একজন লোক আসিয়া কইচে “ইউএনও স্যার আইসোচে, বাচ্চাদের পায়ের শিকল খুলে দেও।” তখন ডরে শিকল খুলি দেই। তারপরে গাড়িত চড়ি দুজন আসিয়া ২৫ কেজি চাউল, ত্যাল, ডাইল দিয়া গেইচে। পরে শুনচি একজন নাকি ইউএনও, আরেকজন উপজেলা চেয়ারম্যান।’

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই শিশু দুটির পায়ের শিকল খুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনের গাড়ি দেখে ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শিশুটির বাবা আমির হোসেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফেরেননি।
শেফালি বেগম বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। খায়া না খায়া দিন কাটে হামার। এত দিন কায়ো খোঁজ নেয় নাই। আইজ (সোমবার) সকাল থাকি মানুষ আইসোচে। ২০০-৫০০ করি টাকা দিছে।’

default-image

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে শিশু দুটির খোঁজ নিতে ওই রেলবস্তিতে যান বদরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর আলম সিদ্দিক। তিনি এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া দ্বীন কমিটি ও মানবসেবা সংঘ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম এ মতিন সরকার ওই বস্তিতে গিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ শুকনা খাবার দিয়ে আসেন। রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ আনিছুল ইসলাম মণ্ডল পরিবারটিকে ছয় মাসের খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায় পরিবারের সব সদস্যকে নতুন পোশাক দিয়েছেন।

প্রতিবেশী সৈয়দ হোসেন বলেন, হতদরিদ্র আমির হোসেনের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য সাতজন। বয়সের কারণে তিনি কাজ করতে পারেন না। তাই সংসারে এত অভাব। পরিবারটির জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা করা দরকার।

মঙ্গলবার বিকেলে রেলবস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, শিকলমুক্ত শিশু দুটি প্রতিবেশী অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছে। শিশুদের মা শেফালি বেগম এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বহুদিন পরে আইজ বাচ্চা দুইটা খুব খুশি হয়া খেলাধুলা করোচে। মনে হওচে ওরা আসমান হাতোত পাইচে।’

ইউএনও আবু সাঈদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে ওই বাড়িতে যাই। এর আগেই শিশু দুটির পায়ের শিকল খুলে দেওয়া হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে চাল, ডাল, তেলসহ শুকনা খাবার ও কিছু অর্থ দিয়ে এসেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন