default-image

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক তরুণকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাহরকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত জাকির হোসেন ওরফে সাগর (২০) উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাহরকোট গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির ইউছুফ ওরফে লাল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজন তাঁকে প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং সর্বশেষ আজ শনিবার ভোররাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। থানা-পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কিশোর গ্যাংয়ের একদল সদস্য জাকির হোসেনকে মুঠোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তাঁকে স্থানীয় বাহরকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গোপনাঙ্গ, কপাল, হাত, কবজি, পেট, পিঠ, পা, হাতের তালুসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪টি জখম করে এবং পিটিয়ে বাম পা ভেঙে দেয়। এ সময় জাকিরের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তার আগেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জাকিরকে স্কুল-সংলগ্ন রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

জাকির হোসেনের বড় ভাই ইব্রাহিম খলিল বলেন, তাঁর ছোট ভাই চাটখিলের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেন। রাতে সেখান থেকে বাড়িতে আসার পর সন্ত্রাসীরা তাঁর ভাইকে ফোন করে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে অর্ধমৃত অবস্থায় রাস্তার ওপর ফেলে যায়। পরে খবর পেয়ে তাঁরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

জাকির হোসেনের আরেক বড় ভাই মো. সুমন জানান, জাকিরকে তাঁরা শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর কাটা-ছেঁড়া সেলাই করে দেন। এরপর বাম পায়ের ভাঙা ঈদের পর অস্ত্রোপচার করার কথা জানিয়ে তাঁদের আপাতত বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন। এরপর শনিবার বিকেলে ভাইকে নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে আসেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় জাকির হোসেন নামের এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছে বলে তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে পরিবারের কেউ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করতে আসেনি। অভিযোগ নিয়ে এলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন