বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আহত ব্যক্তিরা হলেন মহাসিনা হকের পক্ষের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ (২২), রানা ব্যাপারী (১৮), মো. শরিফ খান (২৫), সারোয়ার হোসেন (২৫), রিফাত হোসেন (৯), হনুফা বেগম (৬০) এবং রিপন হোসেন পাটোয়ারীর পক্ষের তাসলিমা বেগম (৩৬), লালন মিয়া, মানিক শিকদার। আহত ব্যক্তিরা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

গুলিবিদ্ধ রিফাতের মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেকে বাড়িতে রেখে খেতে মরিচ তুলতে গিয়েছিলাম। ছেলে আমার বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। তখন রিপন পাটোয়ারীর লোকজন এসে এলোপাতাড়িভাবে ছড়া গুলি চালায়। আমার ছেলের হাতে ও পায়ে গুলি লেগেছে।’ আহত হনুফা বেগম বলেন, সকালে তাঁদের বাড়িতে রিপন পাটোয়ারীর ২৫ থেকে ৩০ জন লোক আসেন। তখন তাঁদের রোজার দিনে ঝগড়া করতে নিষেধ করেন তিনি। কিন্তু নিষেধ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তাঁর পায়ে গুলি করেন।

default-image

নোয়াদ্দা গ্রামের বাবু গাজী বলেন, তাঁরা মহাসিনা হকের পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন। এটাই তাঁদের বড় দোষ। এ জন্য আজ সকালে রিপন পাটোয়ারীর আমঘাটা, কংশপুরা ও চর ডুমুরিয়া এলাকার লোকজন এসে তাঁদের গ্রামে হামলা করেন। বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে গরু, বাছুর, ছাগল নিয়ে গেছেন। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। গুলি করে তাঁদের ২০ থেকে ২৫ জনকে আহত করেছেন। আহত ব্যক্তিরা পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিপন হোসেন পাটোয়ারীর পক্ষের আহত তাসলিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সকালে মহাসিনা হকের ২০ থেকে ২৫ জন লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁরা আমার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমার ঘর থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। ঘরের টিভি, ফ্রিজ সব ভেঙে ফেলেছে। বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাসিনা হক প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর লোকজন গ্রামছাড়া। কয়েক দিন আগে সভা করে তাঁদের গ্রামে ওঠানো হয়। তবে এক দিন পরই তাঁর লোকজনের ওপর হামলা করে গ্রামছাড়া করে দেন রিপনের লোকজন। যে কয়েকজন বাকি ছিলেন, আজ ভোরে তাঁদের ওপর হামলা করা হলো। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রশাসনকে বলে তাঁরা কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মিথ্যা। নির্বাচনের পর থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাসিনা হকের অনেক লোক গ্রামের বাইরে ছিলেন। কয়েক দিন আগে একটি সভা করে তাঁদের গ্রামে আনা হয়। গ্রামে আসার পর থেকেই তাঁরা আবারও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন। ২৮ মার্চের পর থেকে আজ পর্যন্ত পরপর তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাগুলোয় তাঁর পক্ষের ১০ থেকে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সকালে প্রথম আলোকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাঁরা গ্রামে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন