বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আফসার উদ্দিনের সমর্থক ইউসুফ ও সানি বলেন, তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দে ও হামলার ভয়ে দৌড়ে পালাতে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

নিহত ব্যক্তির চাচা নজরুল ইসলামের ভাষ্য, আবদুল হক আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফসার উদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়িতে ঢুকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তাঁকে ঘর থেকে বের করে মারধর করে তারা। তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় রোববার আক্তারুজ্জামান ও তাঁর দুই সহযোগীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সন্ধ্যায় খাসকান্দি এলাকায় আক্তারুজ্জামান ও আফসার উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় সেখানে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

default-image

সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আফসার উদ্দিনের সমর্থক ইউসুফ ও সানি বলেন, তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দে ও হামলার ভয়ে দৌড়ে পালাতে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আক্তারুজ্জামান ও তার দুই সহযোগীকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সকাল থেকে আমার নির্বাচনী এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে আসছিল। রাতে খাসকান্দি গ্রামে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে আমার অন্তত ১০ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’

ঘটনাস্থলে আবদুল হক নামের তাঁর এক সমর্থক মারা গেছেন বলে তিনি দাবি করেন। নৌকার সমর্থকদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মৃত ব্যক্তির শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে তিনি কী কারণে মারা গেছেন, সেটি ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। যেহেতু এ মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তাই লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।
সোহাগ হাসান, চিকিৎসক, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

অভিযোগের বিষয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতে কদমতলা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর লোকজন তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে। পরে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে কয়েকজন বহিরাগত খাসকান্দি এলাকায় গিয়ে তাঁর লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এ সময় বহিরাগতরা শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করে এবং তাঁর লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পাঁচ–ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করতে প্রতিপক্ষ এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহাগ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে এবং মৃত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের শরীরে গুলির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। তাই জরুরি ভিত্তিতে ওই তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে তিনি কী কারণে মারা গেছেন, সেটি ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। যেহেতু এ মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তাই লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।

আজ সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় মারা যাওয়া ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোকে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন