default-image

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চকেওয়ার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল ও গুলি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাসকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, খাসকান্দি এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা জেসমিন আক্তার ও আহম্মদ হালদারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রায় ছয়-সাত মাস ধরে বিরোধ চলছে। আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ৮-১০ বার সংঘর্ষ ও একাধিক মামলাও হয়েছে। কয়েকবার ধাওয়া দিয়ে দুই পক্ষের লোকজন একে অন্যকে গ্রামছাড়া করেছে। আগামী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পক্ষ দুটি আবারও আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শুক্রবার থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। শনিবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা করেন। দুই পক্ষ কয়েক শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করে। এ সময় এলাকায় ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয়। সেই সঙ্গে ছররা গুলিও চালানো হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ১৫-১৬ জন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় আহম্মদ পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন আবদুল কাদের (২৭), মো. রবিন (১৫), রুবেল হোসাইন (৩৫), ফেরদৌস মিয়া (২৫), মো. নাসির (১২), ফারুক মিয়া (১৬), চুন্নু খান (৭০), মাহফুজুর রহমান (৩০), কহিনুর বেগম (৪০) ও শাহীদা বেগম (৪৬)। তাঁদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জেসমিন পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আল আমিন (২৬), মো. শাওন (১৮), জসিম মোল্লা (৩৫) ও আবদুল মিয়া (৪০)।
এ বিষয়ে জেসমিন বলেন, আহম্মদ ও নজির হালদারের লোকজন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্দুক, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করেন। তাঁরা ঘরের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করেন। বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় তাঁর পক্ষের চারজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হন। আল আমিনসহ পাঁচজনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশি হয়রানি এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁরা।
তবে আহম্মদের পক্ষের নজির হালদার তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেসমিনের লোকজনের জন্য ছয় মাস ধরে তাঁদের মানুষ এলাকা ছাড়া। শনিবার তাঁদের লোকজনের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালান জেসমিনের লোকজন। তাঁদের ছয়-সাতজন সমর্থকের গায়ে গুলি ও ককটেল লেগেছে। এ ছাড়া চার-পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার উজ্জামান জীবন জানান, ‘ইউপি নির্বাচন এলে একটি পক্ষ অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সব সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিচুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই পক্ষের লোকজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। পরিস্থিতি এখন শান্ত। রাতেও সেখানে পুলিশ থাকবে। দোষীদের খুঁজে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0