বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুস সাত্তারের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জানান, তৃতীয় দফায় চর কেওয়ার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) আক্তারুজ্জামান ও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী (চাপকল) ইমরান কবিরের সমর্থক ছিলেন।

আবদুস সাত্তারের ছেলে সাগর সর্দার জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর বাবা ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। এরপর তিনি রাতে বাসায় ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, পাশের একটি বাগানে তাঁর বাবার লাশ ঝুলছে। তাঁর বাবাকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আবদুস সাত্তারের স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী আনারস ও চাপকলের প্রার্থীর সমর্থক ছিল। স্বামীকে ইউপি সদস্য প্রার্থী (আপেল) বজলুর রহমানের লোকজন অনেক দিন ধরে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন, যেন তিনি আনারস ও চাপকলকে সমর্থন না করেন। এ নিয়ে আমার স্বামী খুব আতঙ্কে ছিলেন। প্রায় সময় আমাকে বলতেন, শত্রুপক্ষের লোকজন তাঁকে মেরে ফেলবে। এ ভয়ে সে বাড়ি থেকেও বের হতেন না।’

default-image

জানতে চাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে জানান, আফসার উদ্দিনের লোকজন তিন-চারটা মাইক্রোবাস নিয়ে প্রতিদিন নলবুনিয়াকান্দি এলাকায় গিয়ে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেন। তাঁর পক্ষে কাজ করার জন্যই সাত্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বজলুর রহমান জানান, ইউনিয়নের অন্য এলাকাগুলোতে বিশৃঙ্খলা চলছে। তবে তাঁর এলাকায় কোনো ঝামেলা নেই। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম এ কালাম প্রথম আলোকে জানান, মৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটা জানার জন্য লাশের ময়নাতদন্ত করতে হবে।

জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব প্রথম আলোকে জানান, আজ সকালে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা এলাকায় সহিংস অবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাতে একই ওয়ার্ডের খাসকান্দি এলাকায় নৌকার প্রার্থী আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ওই গ্রামের এক ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। এদিকে আজ আক্তারুজ্জামান পক্ষের একজনের লাশ উদ্ধারের পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন