বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লাঞ্ছনার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ফয়সাল হোসেন ও দৈনিক দেশের কণ্ঠের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মিনহাজুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক জানান, ঐতিহ্যবাহী রজতরেখা নদীর উৎসমুখ ভরাট করে কয়েক বছর ধরে সেখানে বালুর ব্যবসা করছেন ইসমাঈল ব্যাপারী। এতে নদীটি শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়। এই সুযোগে ইসমাঈল, তাঁর ভাই আবুল হাসেম, তাঁদের চাচাতো ভাই শাহাদাত ব্যাপারীসহ অনেকেই নদীটির দুই পাশে দোকানপাটসহ স্থাপনা নির্মাণ করে নদীর জায়গা দখলে নিয়েছেন। নদী দখলের চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন দুই সাংবাদিক। একপর্যায়ে সেখানে ছেলে ইসহাককে (১৯) সেখানে পাঠান ইসমাঈল। ঘটনাস্থলে এসেই ফয়সালকে ধাক্কা মারেন ইসহাক। এরপর তাঁর হাতে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। তাঁদের লোকজন তাঁকে মারার জন্য লাঠিসোঁটা হাতে নেন। এ সময় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ইসহাক সরে যান।

স্থানীয় লোকজন জানান, ইসমাঈল, তাঁর ছেলে ইসহাক চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, অবৈধভাবে নদী ভরাট করছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পান না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাঈল ব্যাপারী বলেন, ‘দুপুরে আমার ছেলে ইসহাক এই সাংবাদিককে মোবাইলে ছবি তুলতে দেখে। এরপরই সে আমাকে কল দিয়ে এ ঘটনা জানায়। আমিও দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে (সাংবাদিক) বলি, তুমি আমার ছেলের মতো, চলে যাও। তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বয়সে ছোট ইসহাক কীভাবে ওই সাংবাদিককে মারতে পারে?’

ইসমাঈল ব্যাপারী আরও বলেন, ‘এই সাংবাদিক তিন–চার বছর ধরেই আমার পেছনে লেগে আছে। নদী দখল করে আমরা নাকি বালুর ব্যবসা করি—এমন খবর এর আগেও কয়েকবার ছেপেছে। আর খবর ছাপা হলেই ডিসি, ইউএনও ও এসি ল্যান্ডরা এসে আমাদের জায়গা মাপামাপি করে। এ পর্যন্ত সাত–আটবার আমাদের জায়গা মাপামাপি করার পর তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এই সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন।’

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন