বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মরিয়ম আক্তারের খালা ইতি আক্তার বলেন, মরিয়মের স্বামী মামুন বিদেশে যাওয়ার জন্য বছরখানেক ধরে মরিয়মকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলছিলেন। টাকা এনে না দেওয়ায় কয়েকবার মারধরও করা হয় তাঁকে। মরিয়ম প্রায় সময় একটু শান্তির জন্য বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকতেন। পাঁচ মাস আগে মরিয়মকে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যেতে বলেন মামুন। মরিয়ম না যাওয়ায় তাঁর মাথার সব চুল কেটে দেন তিনি। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সালিসও হয়। পরে আবার দুজন সংসার করতে থাকেন, আবারও শুরু হয় যৌতুকের নিপীড়ন। এবার চরিত্র নিয়েও নানা ধরনের কটূক্তি করতে থাকেন মামুন ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মরিয়মকে মরে যেতে বলেন তাঁরা। সহ্য করতে না পেরে সোমবার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন মরিয়ম।

ইতি আক্তার বলেন, ‘এই খবরও আমরা বাইরের মানুষের মাধ্যমে পাই। মরিয়ম অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাড়িতে পড়েছিল। কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। মরিয়মের বাবা ও আমি দগ্ধ অবস্থায় ওকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর নেয়নি। গতকাল রাতে মরে যাওয়ার পরও মরিয়মের লাশের কাছে আসেনি তারা।’

ইতি আক্তার আরও বলেন, ‘যৌতুকের জন্য একটি মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হলো। তাকে শেষ পর্যন্ত মরতে বাধ্য করা হলো। এটি হত্যার শামিল। আমরা মরিয়মের এ ঘটনার সাথে স্বামীসহ যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।’

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন