বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার রাত দুইটার দিকে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে মানুষ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বাজারের মসজিদের মাইকেও মাইকিং করা হয়। এলাকার লোকজন বেরিয়ে এলে ডাকাতেরা নদীপথে পালিয়ে যায়। তবে এর আগে তারা মুননাগ স্বর্ণ শিল্পালয়, নিখিল বণিক স্বর্ণ শিল্পালয় ও মিল্টন ব্রাদার্স স্টোর থেকে মালামাল লুটপাট করে।

নিখিল বণিক স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক রিপন বণিকের ভগ্নিপতি বাবুল বণিক বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ২০-২৫ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতি শুরু করে। তাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল। মুখে মাস্ক পরা ছিল। রাত দুইটার দিকে প্রথমে বাজারের পাহারাদারদের হাত বেঁধে ফেলে তারা। পরে আমাদের দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকান ও রিপনের ঘর পাশাপাশি। একপর্যায়ে ডাকাতেরা রিপন ও তাঁর স্ত্রীকে বেঁধে ব্যাপক মারধর করে। তাঁদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তিনটা সিন্দুক ও দুটি আলমারি থেকে ১০০ ভরির বেশি সোনা ও ৩০ লাখ টাকা লুটে নেয় ডাকাতেরা।’

বাবুল বণিক বলেন, রিপন এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এখন যে ভাত খাবেন, সে সামর্থ্যও নেই। মানুষের সোনা ও ধারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, এই চিন্তায় তাঁর অবস্থা খারাপ।

মুননাগ স্বর্ণ শিল্পালয় ও বাজার মালিক সমিতির সভাপতি রনি নাগ বলেন, ‘আমার দোকানে বেশি সোনা ছিল না। সাত-আট ভরি সোনা নিয়েছে। ডাকাতেরা স্পিডবোটে করে মেঘনা নদী ধরে পালিয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘ডাকাতদের ভয়ে আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছিলাম না। সব সময় ভয় কাজ করত। শেষ পর্যন্ত ডাকাতেরা সব নিয়েই গেল।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ডাকাতির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিডিও দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। শিগগিরই জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, কতটুকু সোনা ডাকাতি হয়েছে, সেটা নিয়ে ভিন্নমত আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন