default-image

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গতকাল রোববার বিকেলে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা তিমি নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল, এটি গভীর সাগর থেকে ভেসে এসেছে। এখন বলা হচ্ছে, এটি নতুন তিমি নয়। গত ১০ এপ্রিল ভেসে আসা যে তিমিকে বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছিল, পূর্ণিমার জোয়ারে সৈকতের বালু সরে সেই মৃত তিমির অংশবিশেষ ভেসে ওঠেছিল।

প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল এটি নতুন তিমি। পরে জানা গেল ভেসে আসা তিমিটি নতুন তিমি নয়, এটি ২২ দিন আগে বালুচরে পুঁতে ফেলা একটি তিমির অংশবিশেষ।
প্রণয় চাকমা, ইউএনও, রামু

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে তিমি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন নতুন তিমি মনে করে প্রশাসনকে খবর দেয়। প্রশাসনের লোকজনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত তিমি দেখতে পান। যদিও তিমির লেজ ও মাথার অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে জানা যায়, এটি আগের তিমির অংশবিশেষ।

গতকাল সন্ধ্যায় রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমার উপস্থিতিতে ভেসে ওঠা তিমির অংশবিশেষ পুনরায় সৈকতে বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল এটি নতুন তিমি। পরে জানা গেল ভেসে আসা তিমিটি নতুন তিমি নয়, এটি ২২ দিন আগে বালুচরে পুঁতে ফেলা একটি তিমির অংশবিশেষ। পরে সৈকতে গভীর গর্ত খনন করে তিমিটির অংশবিশেষ পুঁতে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
সৈকতের নরম বালু জোয়ারের পানিতে এমনিতেই সরে যায়, এ কথা জানা থাকার পরও বালুচরে বড় দুটি তিমি পুঁতে ফেলা ঠিক হয়নি। জোয়ারের পানিতে বালু সরে গিয়ে তিমির অংশবিশেষ আবারও ভেসে ওঠতে পারে।
দীপক শর্মা, সভাপতি, কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ

ইউএনও প্রণয় চাকমা আরও বলেন, গত ৯ ও ১০ এপ্রিল হিমছড়ি সৈকতে দুটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। প্রথমটি ভেসে আসে হিমছড়ি সৈকতে, অপরটি প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে দরিয়া নগর পয়েন্টে। দুটি তিমিই সৈকতের দুটি পয়েন্টে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গেল কয়েক দিনের পূর্ণিমার জোয়ারের ধাক্কায় হিমছড়ি সৈকতে যে তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়েছিল, বালু সরে যাওয়ায় সেটি পুনরায় ভেসে ওঠে। নির্জন সৈকতে বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি।

পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, রোববার বিকেলে জোয়ারের পানিতে ভাসতে দেখে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন এটি তৃতীয় মৃত তিমি। গণমাধ্যমেও নতুন তিমি হিসেবে প্রচার পেয়েছে। পরে অনুসন্ধান করে জানা গেল, এটি আগের মরা তিমির অংশবিশেষ। এর মাথা ও লেজ ছিল না। তিনি আরও বলেন, সৈকতের নরম বালু জোয়ারের পানিতে এমনিতেই সরে যায়, এ কথা জানা থাকার পরও বালুচরে বড় দুটি তিমি পুঁতে ফেলা ঠিক হয়নি। জোয়ারের পানিতে বালু সরে গিয়ে তিমির অংশবিশেষ আবারও ভেসে ওঠতে পারে।

গত ৯ ও ১০ এপ্রিল হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসা দুটি মৃত তিমির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও গতকাল পর্যন্ত তার পরীক্ষা হয়নি বলে জানা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন