কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে টিসিবির পণ্য আপনার স্বাক্ষরিত ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে ৪৯ জন ব্যক্তির নামে দুটি করে কার্ড এবং মৃত ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড ইস্যু করে ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেহেতু আপনার এ ধরনের কার্যকলাপ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর ৩২ (ঘ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল, সুতরাং ওই আইনে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলো। এই চিঠি পৌর মেয়র কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে জারি করা হলো।’

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৫০টি দ্বৈত কার্ডের সন্ধান মেলে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলরদের মাধ্যমে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার কার্ডধারীদের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়েছে। মোট ৪০৫ টাকার বিনিময়ে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি করে চিনি বিতরণ করা হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের তিনজন নারী কাউন্সিলরের প্রত্যেকের মাধ্যমে ৬০০ জন করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। গতকাল পৌর এলাকার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় নানা অসংগতি ধরা পড়ে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৫০টি দ্বৈত কার্ডের সন্ধান মেলে।

ইউএনও শামীম ভূঁইয়া বলেন, কাউন্সিলর শেফালি খাতুন মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মৃত রবিছন নেছাসহ ৫০ জনের নামে দুটি করে কার্ড তৈরি করেছেন। এসব কার্ডের বিপরীতে সরকারিভাবে দুই ঈদের আগে দুই দফা পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এসব জালিয়াতির দায় শেফালি খাতুন কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। কারণ, প্রতিটি কার্ড শেফালি খাতুন নিজে তৈরি করেছেন এবং কার্ডগুলোতে তাঁর সিল ও সই আছে। এ জন্য তাঁকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

তবে কাউন্সিলর শেফালি খাতুন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রবিছন নেছা বেঁচে থাকাকালেই তাঁর নামে কার্ড তৈরি করা হয়েছিল। রবিছনের পরিবারের সদস্যরা তাঁর পক্ষে পণ্য কিনেছেন। আর অসাবধানতাবশত কিছু লোকের নামে একাধিক কার্ড তৈরি হয়ে গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন