লিখিত অভিযোগ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৫২৩ জন উপকারভোগীর নাম রয়েছে। প্রত্যেকে ১০ টাকা কেজি দরে বছরে পাঁচ মাস (মার্চ, এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর) ৩০ কেজি করে সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁরা চাল পাচ্ছেন না।

ওই তালিকার ১৪৪ নম্বরে রয়েছে ভরিপাশা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. হোসনেয়ারা বেগমের নাম। ১৪৬ নম্বরে অসিম খানের স্ত্রী ইসরাত জাহান ওরফে সরমি, ১৪৩ নম্বরে ফজলে করিমের ছেলে শহিদুল ইসলাম, ১২২ নম্বরে আ. লতিফ সরদারের স্ত্রী নিলুফা বেগম এবং ২২৪ নম্বরে রয়েছে খলিল সরদারের স্ত্রী লাভলি বেগমের নাম। কিন্তু তাঁরা ১০ টাকা কেজি দরের চাল কিনতে পারছেন না।

আমার শাশুড়ির নামটাই দেখলেন, অন্য কারও নামটা দেখলেন না। এ রকম অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের নাম দরিদ্র ব্যক্তিদের তালিকায় আছে। যাঁরা সবাই বিত্তশালী।
এলিনা আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য

হোসনেয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ডিলার তাঁকে চাল দেন না। একই অভিযোগ করেন ইসরাত জাহান, শহিদুল ইসলাম, নিলুফা বেগম, লাভলি বেগম।

হাওয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, তালিকার ১৪৭ নম্বরে তিন বছর তাঁর নাম ছিল। তবে কখনো ১০ টাকা কেজি দরের চাল পাননি। পরে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়। হাওয়া বেগমের প্রশ্ন, তিন বছর তাঁর নামের চাল কে নিয়েছিল? তাঁকে কেন দেওয়া হয়নি?

একই তালিকার ১৩ নম্বরে আসমত আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. রাজ্জাক ভূঁইয়ার নাম রয়েছে। তিনিও চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভরিপাশা গ্রামের শাহনাজ বেগমকেও চাল দেওয়া হচ্ছে না।

অথচ সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী ইউপি সদস্যা এলিনা আক্তারের শাশুড়ি বিত্তশালী মোসা. রাশেদা বেগমের নাম রয়েছে দরিদ্র ব্যক্তিদের তালিকায়। তিনি চালও পাচ্ছেন নিয়মিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলিনা আক্তার উত্তেজিত স্বরে বলেন, ‘আমার শাশুড়ির নামটাই দেখলেন, অন্য কারও নামটা দেখলেন না। এ রকম অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের নাম দরিদ্র ব্যক্তিদের তালিকায় আছে। যাঁরা সবাই বিত্তশালী।’

ইউএনও স্যারের নির্দেশে আগামী সোমবার ডিলার ও অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
কমল গোপাল দে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বাউফল

ভরিপাশা গ্রামের মৃত রশিদ উদ্দিনের মেয়ে মোসা. ডালিয়া বেগম (৪২) বলেন, ‘আমার বাবা জীবিত থাকাকালে কোনো দিন ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারেননি। তখন চাল কিনতে গেলে ডিলার জানিয়ে দেন, তাঁর নাম তালিকায় নেই। এখন জানলাম, আমার বাবার নাম তালিকায় ছিল এবং ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর মারা গেলেও এখনো তিনি ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনছেন বলে কাগজে-কলমে দেখানো হচ্ছে। আজব দেশ!’

মল্লিকডুবা গ্রামের আলাল হাওলাদার ও মো. সাজু মারা যাওয়ার পরেও তাঁদের নাম রয়েছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির তালিকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার কারণে অনিয়ম হচ্ছে। তাঁরা (ডিলার) কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। অনেকের নামের চাল তাঁরা আত্মসাৎ করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার মো. জুয়েল রানা বলেন, তালিকায় কিছু অনিয়ম আছে। যা তাঁর পূর্বের ডিলার করে গেছেন। তবে তিনি কোনো অনিয়ম করছেন না দাবি করে বলেন, যাঁরা কার্ড নিয়ে আসেন, তাঁদেরকেই তিনি চাল দিচ্ছেন। কে মারা গেছেন, তা তিনি জানেন না।

ইউএনও মো. আল আমিন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে বলেন, ‘ইউএনও স্যারের নির্দেশে আগামী সোমবার ডিলার ও অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন