বিজ্ঞাপন

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় মোট জেলের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৯৪। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৩৬ জন মুসলমান। বাকিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মোট জেলের ৬০ শতাংশই মুসলমান।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম বলেন, বর্ষা এলেও এখনো মেঘনায় পানির চাপ বাড়েনি। এ জন্য তেমন হারে ইলিশ ধরা পড়ছে না। কয়েক দিন পর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। তখন ক্রেতারাও কম দামে ইলিশ কিনতে পারবেন। তখন লাভের মুখ দেখবেন জেলে ও মাছ বিক্রেতারা।

গতকাল রোববার উপজেলার আমিরাবাদ, এখলাশপুর, ষাটনলসহ আরও কয়েকটি জেলেপাড়ায় দেখা যায়, এসব এলাকার জেলে পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে ঈদের আমেজও নেই। সেখানকার খেয়ে না খেয়ে থাকা লোকগুলোর মুখ মলিন। শিশুদের মধ্যেও দেখা যায়নি ঈদের উচ্ছ্বাস।

এখলাশপুর এলাকার জেলে রুহুল আমীন বলেন, ‘মাসখানেক ধইরা মেঘনায় জাল ফালাইতাছি। ১৫-১৬টা ইলিশ পাইছি। হেগুলি বেইচ্চা ট্রলারের তেলের খরচই উঠে নাই। অন্য আয়-রোজগারও নাই। আশা আছিল, ইলিশ বেইচ্চা সংসারের খরচ চালামু। ধারকর্জ শোধ দিমু। ভালা কইরা ঈদ করুম। হেইডা অইতাছে না। ইলিশ না পাওনে ঈদের আনন্দডাই অইব না। সরকারি সাহায্যও পাইতাছি না। ’

উপজেলার এনায়েতনগর, সুজাতপুর, গজরা, নন্দলালপুর ও ছেঙ্গারচর মাছবাজারে অল্প কিছু ইলিশ বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতা নেই। এনায়েতনগর বাজারের মাছ বিক্রেতা পবিত্র দাস বলেন, ‘মেঘনায় ইলিশ ধরা পড়তাছে না তেমন। এলিগা বাজারেও ইলিশের এই আকাল। এতে জেলে ও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত অইতাছি।’

উপজেলার এনায়েতনগর বাজারের মাছ বিক্রেতা পবিত্র দাস ও ছেঙ্গারচর বাজারের মাছ বিক্রেতা প্রাণকৃষ্ণ বলেন, গত কয়েক বছর এ সময় প্রতিদিন প্রতিটি বাজারে গড়ে ৪-৫ মণ ইলিশ বিক্রি হতো। উপজেলার ১৪টি বাজার এবং ছেঙ্গারচর আড়ত মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ মণ ইলিশ আসত। প্রতিদিন ৪৫-৫০ মণ বিক্রি হতো। এবার ওই ১৪ মাছবাজার ও আড়তে প্রতিদিন ইলিশ ওঠে ৬-৭ মণ। প্রতিদিন বিক্রি হয় মাত্র ৪-৫ মণ। আমদানি কম হওয়ায় ইলিশের দামও বেশি। এ কারণে ক্রেতাও কম। এখন এক-দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০, মাঝারি ইলিশের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন