default-image

নরসিংদীর মেঘনা নদীতে দুই স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে পানিতে ডুবে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে দুই বছরের এক শিশু। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে চারজন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার করিমপুরের চম্পকনগরে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম হানিফ মিয়া (৬০)। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি গ্রামে। নিখোঁজ শিশুটির নাম নাহিদ মিয়া। সে নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট নরসিংদীর থানারঘাটের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীবাহী আরেকটি স্পিডবোট নরসিংদী শহরের থানারঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দির দিকে যাচ্ছিল। নদীতে দুই স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মরিচাকান্দিগামী স্পিডবোটটি ডুবে যায়। আর অপর স্পিডবোট থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে ছয়জন। ডুবে যাওয়া স্পিডবোটের যাত্রী হানিফ মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। উপস্থিত লোকজন তাঁর লাশ উদ্ধার করেন। স্বজনেরা রাতেই তাঁর লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যান। ছিটকে নদীতে পড়া যাত্রীরা পাড়ে ফিরলেও শিশু নাহিদ নিখোঁজ। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে ঢাকা থেকে যাওয়া ডুবুরি দল, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও করিমপুর নৌফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

হানিফের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গতকাল বিকেলে নরসিংদী শহরে চিকিৎসককে দেখিয়ে স্পিডবোটে বাঞ্ছারামপুরে ফিরছিলেন হানিফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ শিশু নাহিদ মিয়ার পরিবারের লোকজন বলেন, গতকাল দুপুরের দিকে নাহিদকে সঙ্গে নিয়ে তার বড় বোন ফারিয়া (১৬) বাসা থেকে বের হয়েছিল। ভাইকে নিয়ে সলিমগঞ্জের দিকে গিয়েছিল কিশোরী বোন। ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এক বছর আগে ভাই–বোন তাদের মাকে হারিয়েছে।

নরসিংদীর করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম দুর্ঘটনার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন