default-image

নরসিংদীর মেঘনা নদীতে দুই স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিখোঁজ দুই বছরের শিশু নাহিদ মিয়ার সন্ধান মেলেনি তিন দিনেও। নৌ পুলিশ বলছে, এখন লাশ ভেসে ওঠার অপেক্ষা ছাড়া আর বিকল্প কিছু করার নেই।

গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরাঞ্চল করিমপুরের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে দুই স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই বছর বয়সী নাহিদ মিয়া নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকার ব্যবসায়ী ফারুক মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট নরসিংদীর থানারঘাটের দিকে এবং যাত্রীবাহী আরেকটি স্পিডবোট নরসিংদী শহরের থানারঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দির দিকে যাচ্ছিল। স্পিডবোট দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় মরিচাকান্দিগামী স্পিডবোটটি ডুবে যায় এবং অপর স্পিডবোট থেকে শিশুসহ নদীর পানিতে ছিটকে পড়েন ছয় জন। তাঁদের মধ্যে ডুবে যাওয়া স্পিডবোটের যাত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার পাহাড়িয়াকান্দি গ্রামের হানিফ মিয়া (৬০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর থেকে নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা থেকে আগত ডুবুরি দল, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও করিমপুর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গতকাল দুপুরে রায়পুরার আমিরগঞ্জের নলবাটা এলাকায় মেঘনা নদীতে কচুরিপানায় আটকে ছিল এক শিশুর লাশ। স্থানীয় লোকজন ওই লাশ দেখতে পেয়ে তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেন। এর সূত্র ধরে বিকেলে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নলবাটা এলাকায় যান লাশটি উদ্ধারের জন্য। কিন্তু তারা ওই স্থানে যাওয়ার আগেই নদীতে ভাটার টানে লাশটি ভেসে অন্যত্র চলে যায়।

নিখোঁজ শিশুর বাবা ফারুক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুর লাশের বর্ণনা শুনে আমি নিশ্চিত হয়েছি, এটা আমার ছেলে নাহিদ মিয়ার লাশ।’

নরসিংদীর করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম বলেন, নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্যরা। নলবাটা এলাকায় কচুরিপানায় এক শিশুর লাশ আটকে থাকার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েও লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন