default-image

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের অংশ হওয়ায় প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই অংশে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে হিমশিম খাচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য বিভাগের ভাষ্য, প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা রাতের আঁধারে নদীর ওই অংশে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত রাখেন। তাঁদের নির্বৃত্ত করতে গেলেই নদীতে  হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এবারও দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার দেবুয়া এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার মেহেন্দীগঞ্জের দুজন প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের নেতৃত্বে অভিযানকারী দলের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এবার নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চালানোর সময় মুলাদির জয়ন্ত নদীতে মত্স্য কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা হয়েছিল। এতে পাঁচজন আহত হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর, শাওরা সৈয়দখালী, চরকিল্লা, অন্তর্বাম, দেবুয়া, কাইসমা, ধুলখোলা, আবুপুর, গঙ্গাপুর, নাছোকাঠি–সংলগ্ন মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ নিধন করেন একশ্রেণির জেলে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় জেলেরা এসব ইলিশ নিধন করছেন। তাঁদের ইঙ্গিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, পাঁচ দিনে উপজেলায় ৩৫ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানে গিয়ে তিনিও জেলেদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের চারদিকে মেঘনার শাখা-প্রশাখা নদী। নদীতে ব্যাপক মা ইলিশের বিচরণ। এই এলাকায় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে শিশুদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিধান না থাকায় তাঁরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।

মেঘনা নদীর ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নৌ পুলিশের ১৩ জন সদস্য আছেন। কিন্তু এত স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাঁরাও জেলেদের হামলার শিকার হচ্ছেন।

হিজলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন বলেন, অবস্থা বিবেচনায় এখানে আরও ৩৪ জন পুলিশ সদস্য হিজলা নৌ পুলিশে যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের দুটি এলাকায় ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন মেঘনা পাহারায় নিযুক্ত করা হবে।

ওসি বেল্লাল হোসেন জানান, পুলিশ সদস্য সীমিতসংখ্যক হওয়ার কারণে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরিশাল থেকে ১৪ জন এবং ঢাকা থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য হিজলা নৌ পুলিশে যুক্ত হবেন।

হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মেঘনার শাখা-প্রশাখা এবং সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদী ঘিরে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এটিকে দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আয়তন ৩১৮ বর্গকিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতি জানানো হলে দুই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জেলেরা নিরীহ। এসব হামলার নেপথ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী ইলিশ ব্যবসায়ী, যাঁরা জেলেদের দাদন দেন। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে দু-এক দিনের বিশেষ অভিযান শুরু করবে।

মন্তব্য পড়ুন 0