বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রলারে ১০ জন জেলে ছিলেন। সবাই উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর সাতজন জেলে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় কোস্টগার্ডের সদস্যরা আজ সারা দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। যেখানে ট্রলার ডুবেছে, সেখানে দুই জেলের মরদেহ পান তাঁরা। এখনো মমিনুল ইসলাম (২৫) নামের এক জেলে নিখোঁজ।

দুর্ঘটনার পর সাতজন জেলে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। একজন এখনো নিখোঁজ।

ট্রলারের মালিক আবদুর রহমান বাদী হয়ে আজ লঞ্চের মাস্টার, সারেংসহ সব কর্মচারীকে আসামি করে দৌলতখান থানায় মামলা করেছেন। তবে তাসরিফ লঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন দাবি করেন, তাঁদের লঞ্চ কোনো ট্রলারকে ধাক্কা মারেনি। ওই নৌপথে চট্টগ্রাম বন্দরগামী শত শত মালবাহী জাহাজ চলছে। গতকাল রাতে ঘন কুয়াশা ছিল। অন্য জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবতে পারে।

পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ট্রলারের মালিক-জেলেরা জানান, গতকাল ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তাসরিফ-২ যাত্রীবাহী লঞ্চটি হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে দৌলতখানের চৌকিঘাট–সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এসে এরশাদ মাঝির ট্রলারে ধাক্কা মারে। এ সময় জেলেরা জাল পেতে নৌকায় অপেক্ষা করছিলেন। তবে তাঁদের কয়েকজন তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। লঞ্চের ধাক্কায় জেলে ট্রলারটি ডুবে যায়।

পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ট্রলারের মালিক-জেলেরা আরও জানান, লঞ্চের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার হয়েছে। ১০ জেলের মধ্যে ৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ৩ জন নদীতে নিখোঁজ ছিলেন। কোস্টগার্ড সারা দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে। একজন এখনো নিখোঁজ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রলার থেকে জীবিত ফেরা তিন জেলে। তাঁরা হলেন মো. সোহেল (২০), জামাল উদ্দিন (৩৫) ও মো. ইদ্রিস হাওলাদার (৫০)। আহত ব্যক্তিরা দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এদিকে নিখোঁজ জেলের সন্ধানে মেঘনার তীরে ভিড় করেছেন স্বজনেরা। কোস্টগার্ড ও দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে নিখোঁজ জেলের উদ্ধারের জন্য মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করছেন।

দৌলতখান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নদীতে নিখোঁজ জেলের উদ্ধারকাজ চলমান।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন