ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে মেঘনা নদীতে ফেরিতে আগুন নেভাচ্ছে দমকল বাহিনী। ১০টি গাড়ি পুড়ে ৫কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬ জন
ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে মেঘনা নদীতে ফেরিতে আগুন নেভাচ্ছে দমকল বাহিনী। ১০টি গাড়ি পুড়ে ৫কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬ জনপ্রথম আলো

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে মেঘনা নদীতে কলমিলতা নামের ফেরিতে দ্বিতীয় দফায় আগুন লাগে। পুনরায় ভোলা থেকে যাওয়া ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে।

চালকদের অভিযোগ, অবজ্ঞা-অবহেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ফেরিতে সবকিছুই বিকল হয়ে আছে। তাই ফেরিতে আগুন নেভানোর যন্ত্র থাকলেও ফেরিতে কর্মরত লোকজন আগুন নেভাতে পারেননি। যথাসময়ে আগুন নেভাতে পারলে ১০টি গাড়ি পুড়ত না। আর ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হতো না।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির চালক ও যাত্রীদের ভাষ্য, আল্লাহর রহমত, ভোলার ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। অন্যথায় ৪ শতাধিক যাত্রীসহ ফেরিকে আরও দুর্ভোগে পড়তে হতো।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) বরিশালের উপপরিচালক এমরান হোসেন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি।

default-image

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক পারভেজ খান ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রাত তিনটার সময় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাট থেকে কলমিলতা নামের ফেরিটি প্রায় ১৫টি গাড়ি নিয়ে ছেড়ে আসে। মাঝনদীতে এলে হঠাৎ ককশিট বহন করা একটি মালবাহী গাড়িতে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ভোলার ব্যবস্থাপক ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে থাকা কিষানি নামের ফেরিতে করে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই মধ্যে ৩টি মালবাহী ট্রাক, ৬টি মালবাহী পিকআপ, ১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১০টি গাড়ি পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবস্থাপক আরও জানান, আগুন নেভানোর পর ফেরিটি ট্রাকসহ ডুবোচরে আটকে যায়। পরে জোয়ার এলে ফেরিটি ছাড়া পেয়ে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। এমন সময় বিটুমিন বহন করা ট্রাকে আবার আগুন জ্বলে ওঠে। এ খবর পেয়ে আবার ফায়ার সার্ভিস কলমিলতা ফেরির কাছে গিয়ে আগুন নেভায়।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা গাড়ির চালক মহিউদ্দিন (৫২) বলেন, ১০টি গাড়ির কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর গাড়িতে থাকা মালামালসহ ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরও বেশি ক্ষতি হতে পারত। এ ঘটনায় ফেরির কর্মচারীদের অবহেলা রয়েছে।

default-image

ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকচালক মো. কাওসার আলম (২৬) বলেন, ফেরির আগুন নেভানোর যন্ত্রটি বিকল ছিল। যদি আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সেটি ব্যবহার করা যেত, তাহলে এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না। ক্ষতিগ্রস্ত আরেক চালক মো. রাসেল (২৮) বলেন, ফেরির সব যন্ত্র অযত্নে-অবহেলায় বিকল হয়ে আছে। সময়মতো কাজ হয়নি।

চালকেরা আরও জানান, মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ৬-৭ জন ট্রাকচালকের সহকারী আহত হয়েছেন। এমন মেয়াদোত্তীর্ণ ফেরি কীভাবে নৌপথে চলাচলের ছাড়পত্র পায়, তা নিয়ে যাত্রীদের মনে প্রশ্ন আছে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফেরিটি ঘাটে পৌঁছেছে।

ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার মো. বেল্লাল বলেন, আগুন নেভাতে গিয়ে দেখেন আগুন নেভানোর যন্ত্রটি কাজ করছে না। তাৎক্ষণিক তিনি ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপককে খবর দেন। এখানে তাঁদের কোনো অবহেলা নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন