বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নয়ন জমাদার বলেন, ‘শুক্রবার ফরিদপুর আসতে আসতে রাইত ১১টা বাইজা গেছে। আইসা ডাক্তার দেখাইতে পারি নাই। সিটও পাই নাই। এমনকি ওয়ার্ডের মেঝেতেও থাকার মতো জায়গা ছিল না। তাই নবজাতক, প্রসূতিসহ পরিবারের সকলকে নিয়া বারান্দায় চাদর পাইত্তা থাকতে হইচ্ছে।’

শনিবার ওই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। ওয়ার্ডের শয্যাগুলো ভরে আছে রোগীতে। ওয়ার্ডের ভেতরের কক্ষের মেঝেতে রোগীতে গিজগিজ করছে। হাসপাতালের মেঝেতে নবজাতক ও প্রসূতিদের রেখে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।

তাঁদের একজন বেবী আক্তার (২৮)। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সূর্য হাওলাদারের স্ত্রী। বেবীর স্বজন হেলেনা আক্তার বলেন, শয্যা না থাকায় জায়গা হয়েছে ওয়ার্ডের মেঝেতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা আছে ৮টি। কিন্তু রোগীর চাপ বেশি। শনিবার রোগী ভর্তি ছিল ৪৫ জন। শুক্রবার ৩২ ও বৃহস্পতিবার ভর্তি ছিল ৩৬ জন।

শিশু ওয়ার্ডে কর্মরত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স দয়া রানী ঠাকুর হাসপাতালে শিশুবিষয়ক একজন কনসালট্যান্ট আছেন। চিকিৎসক কর্মকর্তার একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ ওয়ার্ডে মাত্র দুজন নার্স। এর পাশাপাশি আরও দুজন ইন্টার্ন (নার্সিং) দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

দয়া রানী ঠাকুর বলেন, ‘এভাবে মেঝেতে রেখে নবজাতক ও প্রসূতির চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায় না। কিন্তু আমরা কী করব? লোকজন এলে আমরা তো আর চিকিৎসা না দিয়ে বিদায় করে দিতে পারি না। কষ্ট হলেও চালিয়ে নিতে হচ্ছে।’

ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মহল্লায় মুজিব সড়কের উত্তর পাশে এবং পৌর ভবনের পশ্চিম পাশে হাসপাতালটির অবস্থান। যোগাযোগের সুবিধার কারণে এ হাসপাতালে বরাবরই রোগীর ভিড় বেশি। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ আছে ৩৭টি। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা গণেশ কুমার আগওয়ালা বলেন, জনবলসংকটের কথা প্রতি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও অনেক সময় জনবলসংকটে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন