default-image

লেখাপড়ার খরচ জোগাতে একসময় প্রণয় বর্মণকে পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। তখন ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হতো নদীতে। দিনভর বালু টানার কাজ শেষে সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন বাড়িতে। কিন্তু দিনের ঘাম জড়ানো সেই ক্লান্তি পেছনে রেখে বই নিয়ে পড়তে বসতেন তিনি। অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে। তাঁর সেই শ্রম, ঘাম জড়ানো কষ্ট সফল হয়েছে।

এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন প্রণয় বর্মণ। এ খবরে পরিবারের সবাই খুশি। তবে আনন্দের পেছনে চিন্তা ভর করেছে প্রণয় বর্মণের ওপর। এখন কীভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবেন? ঢাকায় কোথায় থাকবেন? কীভাবে জোগাড় হবে লেখাপড়ার খরচ?

বিজ্ঞাপন

জীবনসংগ্রাম করে এ পর্যন্ত আসা প্রণয় বর্মণের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর গ্রামে। বাবা নারায়ণ বর্মণ পেশায় জেলে। হাওরে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরেন। মা মণি বর্মণ এলাকায় পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করেন। এই দম্পতির দুই ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে প্রণয় বর্মণ দ্বিতীয়। তিন বছর আগে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১২। তাহিরপুর গ্রামে একটি খুপরিঘরে চারজনের পরিবারটির বসবাস।
প্রণয় বর্মণ এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফলাফলে মেধাতালিকায় ৪৩৬তম স্থান অধিকার করেন। তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

প্রণয় বর্মণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর পড়াশোনার পেছনে মায়ের অবদান ও কষ্ট বেশি। এসএসসিতে ভালো ফল করার পর তিনিই উৎসাহ দেন ভালো কলেজে ভর্তি হতে। এরপর প্রতিবেশীসহ নানাজনের সহযোগিতায় তিনি ভর্তি হন সিলেট সরকারি কলেজে। সেখানে অন্যদের সঙ্গে একটি মেসবাড়িতে থেকে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। এখন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।
প্রণয় বর্মণ বলেন, ‘এমনিতেই বাবা এখন বেকার। মা সারা দিন খেটে যা পান, তা দিয়েই কোনোরকমে টেনেটুনে সংসার চলে। এখন আমি কীভাবে ঢাকায় যাব, ভর্তি হব, কোথায় থাকব, লেখাপড়ার খরচই কীভাবে আসবে? এসব নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। মা-বাবাও যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছেন, সেটি তাঁদের মুখের দিকে তাকালে বুঝতে পারি।’ প্রণয়ের ইচ্ছা, লেখাপড়া করে চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন। ‘গরিবের ডাক্তার’ হতে চান তিনি।

একই গ্রামের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার বলেন, প্রণয় বর্মণের পরিবারটি হতদরিদ্র। কিন্তু লেখাপড়ায় তার খুব আগ্রহ এবং সে মেধাবী। তার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবরে অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছে। সে সুযোগ পেলে আরও ভালো করবে। এ জন্য তার সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন