বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিশোরের বাবা কেশব দেবনাথ বলেন, ‘মজুরের কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা পাই। ঠিকমতো কাজ পাওয়া যায় না। সপ্তাহের দুই দিন বাঘারপাড়ার হাটে পান বিক্রি করি। প্রতি হাটে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। সম্পত্তি বলতে কেবল চার কাঠার বসতভিটা আর ১৫ কাঠার ধানের জমি। অন্যের সহায়তা নিয়ে কোনোভাবে ছেলে দুটোর লেখাপড়া করাচ্ছি।’

কেশব দেবনাথের সব স্বপ্ন দুই ছেলেকে নিয়ে। কিশোর এবার যশোর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলে তাঁর স্বপ্নপূরণে কেশব দুশ্চিন্তায় পড়েন। ৮ মে মেডিকেলে ভর্তি শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘কিশোরের মেডিকেলে ভর্তি হতে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার দরকার, যা সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ভর্তির পর বই কিনতে অনেক টাকা লাগবে। এরপর পাঁচ বছর মেডিকেলে লেখাপড়ার অনেক খরচ। অত টাকা আমি কোথায় পাব?’

ছেলের ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে চিন্তায় আছেন কিশোরের মা শান্তনা দেবনাথও। বলেন, ‘আমরা গরিব। অভাবের সংসার। ঠিকমতো সংসার চলে না। এত দিন অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়িয়েছি। এখন সে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ভর্তি হতে অনেক টাকার দরকার। পড়াশোনার খরচ চালাতে প্রতি মাসে টাকা দিতে হবে। এত টাকা কীভাবে দেব?’

কিশোর দেবনাথ বলেন, ‘চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার দুঃখ ঘোচাতে চাই। বিনা মূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে আমার সেই স্বপ্নপূরণ হবে কি না, জানি না।’

এ বিষয়ে কথা হয় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কিশোরকে ব্যক্তিভাবে চিনি। ছেলেটা অত্যন্ত মেধাবী, কিন্তু গরিব। আমি ওকে টাকাপয়সা ছাড়াই প্রাইভেট পড়েয়েছি। আর্থিক সহায়তা পেলে ও ভালো করবে।’

জানতে চাইলে বাঘারপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, ‘সব জেনে আমি কিশোর দেবনাথের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ও একটা আবেদন করেছিল। সেটা ডিসি স্যারকে পাঠিয়েছিলাম। ডিসি স্যার আজ ওকে ডেকে নিয়ে আর্থিক সহায়তা করেছেন। আমরা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে আছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন